দীর্ঘ ১৩ বছর বা ৪ হাজার ৮৩৪ দিন পর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ডাগআউটে ফিরে এলেন হোসে মরিনিও। এই দীর্ঘ সময়ে পৃথিবীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এসেছে, নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যু হয়েছে, স্মার্টওয়াচ জনপ্রিয় হয়েছে এবং বিশ্ব পেয়েছে প্রথম দক্ষিণ আমেরিকান পোপ। তবে সময়ের পরিক্রমায় মরিনিওর অস্থিরচিত্তে পায়চারি করার স্বভাব বা রিয়াল সমর্থকদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। বার্নাব্যুতে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে সমর্থকদের কাছ থেকে দুয়ো যেমন শুনেছেন, তেমনি ৪-১ গোলের জয়ে করতালির বৃষ্টিতেও ভিজেছেন এই কোচ।
রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে এই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের ত্রয়ী কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহাম এমন নৈপুণ্য দেখিয়েছেন যে, অনেক দর্শকই যেন প্রতিপক্ষের নাম ভুলে গিয়েছিলেন। এমবাপ্পে এদিন হ্যাটট্রিক করেছেন, ভিনিসিয়ুস একটি গোল করার পাশাপাশি একটি গোল করিয়েছেন এবং বেলিংহাম দুটি গোল তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন। মৌসুমের প্রথম ম্যাচে দর্শকদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল ‘লাইট শো’, আর মাঠে নেমে এমবাপ্পেরা উপহার দিলেন চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স।
ম্যাচের প্রথমার্ধের ৪০ মিনিটে ফেদে ভালভের্দের পাস থেকে বক্সের ভেতর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে প্রথম গোলটি করেন এমবাপ্পে। যদিও চার মিনিট পর লুকা সুসিচের গোলে সমতায় ফিরেছিল সোসিয়েদাদ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের দাপট ছিল স্পষ্ট। ৬০ ও ৮০ মিনিটে বেলিংহাম ও ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। মাঝপথে ৬৮ মিনিটে বেলিংহামের পাস থেকে গোল করেন ভিনিসিয়ুস। বিশেষ করে এমবাপ্পের তৃতীয় গোলের উৎস হিসেবে ভিনিসিয়ুসের পাসটি ছিল বিস্ময়কর, যা তিনি সোসিয়েদাদ ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
এই জয় নিয়ে লা লিগায় নিজের ঘরের মাঠে ৫৮তম ম্যাচে ৫০তম জয় পেলেন মরিনিও। এই পথে তাঁর দল গোল করেছে ২০২টি। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে এমবাপ্পের পারফরম্যান্স নিয়ে মুগ্ধতা ছিল মরিনিওর কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘এই ছেলেটি অবিশ্বাস্য। আমি দেখতে পাচ্ছি, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিহাস গড়তে সে ভীষণ আগ্রহী।’ এমবাপ্পের কাছ থেকে কত গোল প্রত্যাশা করেন—এমন প্রশ্নে মরিনিও বলেন, ‘সেটা ৬০, ৪০ কিংবা ৫০ হতে পারে। ট্রফিসহ ৪০ গোল পেলেই আমি সন্তুষ্ট। সে দলের ভেতর দায়িত্ব নিচ্ছে, এমনকি ছুটি থেকে দুই দিন আগেই ফিরে এসেছে।’
ম্যাচের শুরুতে গ্যালারি থেকে দুয়ো শোনা প্রসঙ্গে মরিনিও বলেন, ‘বার্নাব্যুকে আমরা জানি। খেলোয়াড়রাও জানে, একটুখানি দুয়ো শোনাতে কারও কোনো ক্ষতি হবে না।’

















