মিসরের প্রধান ফুটবল কোচ হোসাম হাসান ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান মানবিক সংকট নিয়ে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে যদি কোনো ব্যক্তি ফিলিস্তিনিদের কষ্ট অনুভব করতে না পারেন, তবে তিনি মানুষই নন। হোসাম হাসানের মতে, এই অনুভূতি কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা ধর্মের ওপর নির্ভর করে না; আরব, ইউরোপীয় কিংবা আমেরিকান—যেই হোক না কেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই নৈতিক দায়িত্ব।
ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে ঐতিহাসিক জয়ের পরপরই সেই সাফল্য ফিলিস্তিনিদের উৎসর্গ করেছিলেন এই কোচ। এমনকি মাঠের ভেতরে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াতেও দেখা গিয়েছিল তাকে। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এটি নিছক একজন মানুষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া মাত্র। তিনি আরও বলেন, ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের অনেক ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ হিসেবে সবারই নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
ফিফার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের নীতির কথা উল্লেখ করে হোসাম হাসান বলেন, আমি আরব হওয়ার আগে একজন মানুষ। ফুটবলের মাধ্যমে আমার বার্তা হলো, যেমন ফিফা পারস্পরিক সম্মানের কথা বলে, তেমনি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকেও সম্মান জানানো আবশ্যক।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে ফুটবলের পাশাপাশি এসব কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে হাসান জানান, তাদের স্বপ্নের কোনো সীমা নেই। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণে তারা নিজেদের সর্বোচ্চ উজাড় করে দেবেন। এ সময় তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, তারা নিজেদের কোনোভাবেই ছোট দল মনে করেন না।

















