উত্তর সাইপ্রাসের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কিরেনিয়া উপকূল থেকে তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও এক ডজনেরও বেশি যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে এবং তুরস্কের কর্তৃপক্ষও এতে যোগ দিয়েছে।
উত্তর সাইপ্রাসের স্বঘোষিত তুর্কি প্রশাসনের প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল জানিয়েছেন, ফেরিটিতে মোট ২৫৯ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন। স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাহাজটি যাত্রা শুরু করে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে এর আগে যাত্রা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। টিআরটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী উস্তেল জানান, সমুদ্রের দুটি বড় ঢেউ ফেরিটিতে আঘাত করে। প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা সামলানোর সময় দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত করলে ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সেটি উল্টে যায়।
স্থানীয় পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর প্রায় ১০০ যাত্রীকে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত জাহাজটি পুরোপুরি ডুবে গেছে বলে নিশ্চিত করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তাফা কোচ নিজের নৌকা নিয়ে প্রায় ৬৫ জনকে উদ্ধার করেছেন। তিনি দাবি করেন, সমুদ্র বেশ উত্তাল ছিল এবং ফেরিটির যাত্রা নিরাপদ ছিল না। তিনি আরও জানান, ফেরিটি শনিবার কিরেনিয়ায় আসার সময়ই এর সামনের অংশে কিছু ক্ষতি তিনি লক্ষ্য করেছিলেন।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের চিকিৎসার জন্য সৈকতে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছিল এবং ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টার ও কোস্টগার্ডের নৌযান পাঠানো হয়। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত ৪০ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার প্রশস্ত ‘ফিলো জেট’ নামের উচ্চগতির জাহাজটি তুরস্কের পতাকাতলে চলাচল করত। ফেরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফিলো ডেনিজচিলিক শোক প্রকাশ করেছে এবং নিখোঁজদের স্বজনদের জন্য হটলাইন চালু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ক্যাপ্টেনসহ সাতজন ক্রু সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, কোনো ধরনের অবহেলা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনো দুর্ঘটনাকবলিত ফেরিতে থাকা যাত্রীদের জাতীয়তা এবং আহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

















