২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ৭৩ হাজার ৪৫৬ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯৬ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে আল-জাজিরার এজল্যাবস। এই হতাহতের সংখ্যা গাজার মোট জনসংখ্যার অনুপাতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক; পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উপত্যকাটির প্রতি ৩৩ জন বাসিন্দার মধ্যে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন এবং প্রতি ১৪ জনের মধ্যে অন্তত একজন আহত হয়েছেন।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজায় সহিংসতা থামেনি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৩২০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৩৮৫ জন আহত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮১৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আল-জাজিরার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ৩২৬ দিনের মধ্যে ২৯০ দিনই গাজায় ইসরাইলি হামলা, হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনো অনেক মানুষের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং বিভিন্ন সড়কে পড়ে আছে। উদ্ধারকারী দল ও অ্যাম্বুলেন্স সব এলাকায় পৌঁছাতে না পারায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে নিহত ও আহত মিলিয়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৫২ জন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানের ফলে পুরো উপত্যকা জুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

















