আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ফুটবল ইতিহাসকে বারবার নতুন করে লিখেছেন। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পরও নিজের ছন্দ ধরে রেখেছিলেন তিনি। মার্কিন মুলুকে আয়োজিত ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সেও মেসি একের পর এক রেকর্ড ভেঙে নিজের নামকে উজ্জ্বল করেছেন। সর্বশেষ আসর শেষে মেসির বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ছয়টি আসরে খেলা প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন মেসি। ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, রাশিয়া, কাতার এবং সর্বশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি অংশ নিয়েছেন। পুরুষদের ফুটবলে এর আগে কোনো খেলোয়াড় ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি, যদিও ২০২৬ সালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও এই রেকর্ডে মেসির সঙ্গী হয়েছেন।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটিও এখন মেসির দখলে। প্রথম পাঁচটি আসরে ২৬টি ম্যাচ খেলার পর ২০২৬ বিশ্বকাপে আরও ম্যাচ যুক্ত করে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল শেষে তার মোট বিশ্বকাপ ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪। এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো খেলেছেন ২৮টি ম্যাচ এবং তৃতীয় স্থানে থাকা জার্মানির লোথার ম্যাথাউস খেলেছেন ২৫টি ম্যাচ। এছাড়া অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটিও মেসির। ২০২২ সালেই তিনি এই রেকর্ড গড়েছিলেন, যা ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়ে আরও সমৃদ্ধ করেছেন।
গোলের ক্ষেত্রেও মেসি নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে তার গোলসংখ্যা ছিল ১৩টি। মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড টপকে যাওয়ার পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল শেষে মেসির মোট বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১। শুধু গোল নয়, গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডও এখন তার দখলে। এছাড়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয় এবং ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ডেও মেসি অন্যদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে জয় না পেলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির পায়ের জাদু ফুটবলপ্রেমীদের বারবার মুগ্ধ করেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই নক্ষত্র বারবার প্রমাণ করেছেন যে যখনই বিশ্ব ভেবেছে তার সময় শেষ, তখনই তিনি নতুন করে ফিরে এসেছেন।

















