সিরিয়ার দ্রুজ অধ্যুষিত সুয়েইদা প্রদেশে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। মূলত সোমবার তাল হাদিদ ও ওয়ালঘা এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সুয়েইদা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ড জানিয়েছে, আইনবহির্ভূত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর আগে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, পশ্চিমাঞ্চলে আইনবহির্ভূত গোষ্ঠীর হামলা প্রতিহত করার সময় চার নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছিলেন, যা পরে বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।
সুয়েইদা শহর ও এর আশপাশের বেশ কিছু এলাকা বর্তমানে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা সিরিয়ার বর্তমান সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সর্বশেষ অঞ্চলগুলোর অন্যতম। ২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল গার্ড অন্যতম, যারা দ্রুজ ধর্মীয় নেতা শেখ হিকমত আল-হিজরির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
ন্যাশনাল গার্ডের দাবি, সরকারি বাহিনী বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে মর্টার শেল ও ২৩ মিলিমিটার মেশিনগান থেকে গুলি চালিয়েছে, যাতে একটি শিশু আহত হয়েছে। গোষ্ঠীটি পাল্টা জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এদিকে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, শনিবার রাত থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলি বিনিময় চলছে। এর আগে সুয়েইদা শহরের পশ্চিমে একই ধরনের সংঘর্ষে দুই বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। এছাড়া রোববার সরকারি এলাকা থেকে নিক্ষেপ করা একটি গোলায় একটি ট্রাক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাতে থাকা দুই চালক ও এক নারী নিহত হন। গত বছর থেকেই সুয়েইদায় দ্রুজ সম্প্রদায় ও সরকারি বাহিনীর সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

















