অর্থনীতি

হরমুজ প্রণালীতে এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত, বাংলাদেশের ঝুঁকি

প্রতিবেদক
প্রতারণার নতুন মামলায় রাম বিগ্রহ নির্মাতা হরিদাস কারাগারে প্রতারণার নতুন মামলায় রাম বিগ্রহ নির্মাতা হরিদাস কারাগারে পটিয়ায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুই নারীকে মারধরের অভিযোগ পটিয়ায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুই নারীকে মারধরের অভিযোগ খুব দ্রুতই লোডশেডিং পরিস্থিতি উন্নতির আশা তথ্য উপদেষ্টার খুব দ্রুতই লোডশেডিং পরিস্থিতি উন্নতির আশা তথ্য উপদেষ্টার দেশে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু দেশে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু সংসদীয় গণতন্ত্র বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদীয় গণতন্ত্র বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ থেকে পালানো সন্ত্রাসীদের আশ্রয় না দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান বাংলাদেশ থেকে পালানো সন্ত্রাসীদের আশ্রয় না দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান নোয়াখালীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নোয়াখালীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যায় নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা হাজার ছাড়াল নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যায় নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা হাজার ছাড়াল শ্রীনগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০ শ্রীনগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল মেসি
সব খবর

কাতার এনার্জি হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে এলএনজি সরবরাহের সময়সীমা আরও বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক এলএনজি পরিবহন প্রায় বন্ধ থাকায় ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য এলএনজি সংগ্রহ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পাকিস্তানের ক্রেতাদের কাতার এনার্জি জানিয়েছে যে তাদের সরবরাহ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল হতে পারে। একইভাবে, বাংলাদেশকে যে এলএনজি সরবরাহ করার কথা ছিল, তাতেও সেপ্টেম্বরের পর বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপের আরও কয়েকটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের নোটিশ পেয়েছে।

বাংলাদেশ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং খোলাবাজার—এই দুই উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করে। কাতার ও ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশ থেকেই নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। মাঝে মাঝে কিছু কার্গো এলেও তা দেশের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জরুরি ভিত্তিতে আমদানির চেষ্টা করছে, কিন্তু কয়েকটি এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসায় দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে।

ইউরো নিউজের সংবাদ অনুযায়ী, কাতার এনার্জির সর্বশেষ বাতিল হওয়া চালানগুলোর সময়সীমা নভেম্বরের প্রথমভাগ পর্যন্ত গড়িয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতারা ইতিমধ্যেই বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের চেষ্টা করছে, কেউ কেউ ভিন্ন জ্বালানি ব্যবহার শুরু করেছে, আবার কেউ গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহন কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ইতালির জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এডিসন জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুর মধ্যে নির্ধারিত আরও পাঁচটি এলএনজি চালান সরবরাহ করতে পারবে না কাতার এনার্জি। এডিসনের সঙ্গে কাতার এনার্জির চুক্তির আওতায় এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৯টি চালান বাতিল হয়েছে, যা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির কথা ছিল। এডিসন জানিয়েছে, এর মধ্যে ২১টি চালানের বিকল্প ব্যবস্থা তারা করেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি ঘনমিটার গ্যাস পাওয়া যাবে, ফলে গ্রাহকদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে কাতার এনার্জি মার্চ মাসে প্রথম অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করে এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে প্রতি মাসে এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির বিশেষজ্ঞ অ্যান-সোফি করবো বলেন, রাজনৈতিক সমাধান না হলে এই পরিস্থিতি আরও কিছুদিন চলতে পারে। তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিকভাবে এলএনজি রপ্তানি কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে কাতার এনার্জি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেনি, তাই তারা মাসে মাসে এই অনিবার্য পরিস্থিতির মেয়াদ বাড়াচ্ছে।

সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক বাজারে কাতারের এলএনজির সরবরাহ প্রায় থেমে গেছে। আইসিআইএস-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি চালান রপ্তানি করেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯। এতে কাতারের গ্যাস বিক্রি থেকে আয় কমেছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার বা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।

অন্য রপ্তানিকারকেরা অবশ্য এই ঘাটতির একাংশ পূরণ করছে। অ্যান-সোফি করবোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে এবং গত এক বছরে যেসব নতুন স্থাপনা থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে, সেগুলোও এতে ভূমিকা রাখছে। নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়াতেও এলএনজি উৎপাদন বেড়েছে। তবে, এই উৎপাদন বৃদ্ধি সত্ত্বেও কাতার থেকে না পাওয়া এলএনজির ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ হচ্ছে না। এশিয়ার কিছু বাজারে গ্যাসের ব্যবহার কমেছে অথবা তারা অন্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকেছে। ইউরোপও স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ দামে এলএনজি কেনার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে মজুত করা গ্যাস বেশি ব্যবহার করছে। অ্যান-সোফি করবো বলেন, যে চালানগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো বেশি দাম দিতে সক্ষম ক্রেতারাই পাচ্ছেন। এলএনজির দাম বেশি হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু ক্রেতা বাজারে সক্রিয় রয়েছে।

অ্যান-সোফি করবোর মতে, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এলএনজি সরবরাহ দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাহত হতে পারে। এই সময়ে অন্য দেশগুলোয় এলএনজি উৎপাদন বাড়লেও ২০২৬ সালে বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

এই সংকটে সব আমদানিকারক দেশ একইভাবে আক্রান্ত হচ্ছে না। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এলএনজি আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। চীনের আমদানিও কমেছে। অ্যান-সোফি করবোর মতে, যেসব দেশে এলএনজির ওপর বেশি নির্ভরশীল এবং যাদের এলএনজি আমদানির বড় অংশ কাতার বা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে, তারাই বেশি বিপাকে পড়বে। পর্যাপ্ত বিকল্প চালান নিশ্চিত করতে না পারলে ঝুঁকি আরও বেশি, বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির ওপর নির্ভরশীল ক্রেতারা বেশি চাপে আছে।

অ্যান-সোফি করবো মনে করেন, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত রয়েছে। জাপান তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, কারণ এলএনজি আমদানিতে তারা কাতারের ওপর অতটা নির্ভরশীল নয় এবং তারা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। এসব চুক্তির অর্থমূল্য যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাসের দামের সঙ্গে যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নাইজেরিয়ায় নতুন এলএনজি রপ্তানি অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে। এই অবকাঠামো চালু হলে ধীরে ধীরে কাতারের বাইরে থেকে এলএনজির সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য আগের মতো স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ফিরতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ইরান যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যের পাঁচ ভাগের প্রায় এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। কিছু তেলবাহী জাহাজ এখনো এই জলপথ ব্যবহার করছে। তবে এলএনজি পরিবহনের জন্য বিশেষায়িত জাহাজের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় বিকল্প জাহাজ পাওয়া কঠিন। কাতারের গ্যাস রপ্তানির বিকল্প পথও তেমন একটা নেই। ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া কাতার এনার্জির ১২টি এলএনজি উৎপাদন ইউনিট থেকে উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে। তবে, রাস লাফান এলাকায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও দুটি উৎপাদন ইউনিট মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর সীমিত পরিসরে এলএনজি পরিবহন শুরু হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নতুন করে হামলার কারণে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি আবার বেড়ে যায়।

প্রতারণার নতুন মামলায় রাম বিগ্রহ নির্মাতা হরিদাস কারাগারে প্রতারণার নতুন মামলায় রাম বিগ্রহ নির্মাতা হরিদাস কারাগারে পটিয়ায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুই নারীকে মারধরের অভিযোগ পটিয়ায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুই নারীকে মারধরের অভিযোগ খুব দ্রুতই লোডশেডিং পরিস্থিতি উন্নতির আশা তথ্য উপদেষ্টার খুব দ্রুতই লোডশেডিং পরিস্থিতি উন্নতির আশা তথ্য উপদেষ্টার দেশে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু দেশে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু সংসদীয় গণতন্ত্র বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদীয় গণতন্ত্র বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ থেকে পালানো সন্ত্রাসীদের আশ্রয় না দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান বাংলাদেশ থেকে পালানো সন্ত্রাসীদের আশ্রয় না দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান নোয়াখালীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নোয়াখালীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যায় নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা হাজার ছাড়াল নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যায় নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা হাজার ছাড়াল শ্রীনগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০ শ্রীনগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল মেসি
সব খবর