প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৪৪। নরসিংদীর রায়পুরায় একজন কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী, সন্তান এবং তার নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট নয়ন মোল্লার বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার নরসিংদী শহরের শিক্ষা চত্বর এলাকায় প্রবাসী কল্যাণ সংঘ ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রবাসী লুৎফর রহমানের ছোট বোন শাহিদা আক্তার জানান, পারিবারিক মামলার সূত্রে নরসিংদী জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নয়ন মোল্লার সঙ্গে তার ভাইয়ের পরিচয় হয়। লুৎফর রহমান কুয়েতে চলে যাওয়ার পর নয়ন মোল্লা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার স্ত্রী হাফসা আক্তার, ১১ বছর বয়সী ছেলে তাওহিদ এবং ৮ বছর বয়সী মেয়ে তাসমীম আক্তারকে তার নিয়ন্ত্রণে নেন। এ সময় তিনি প্রবাসীর নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও হাতিয়ে নেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে লুৎফর রহমান দেশে ফিরে স্ত্রী-সন্তান ও সম্পদ ফেরত চাইলে তাকে উল্টো হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান বিষয়টি নিয়ে নরসিংদী মডেল থানা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা আইনজীবী সমিতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও নরসিংদী জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট মো. নয়ন মোল্লাকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ফারুক হোসাইনের গত ২৫ আগস্ট স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই অব্যাহতি কার্যকর করা হয়। চিঠিতে ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর নিয়োগ পাওয়া সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে নয়ন মোল্লার নিয়োগ আদেশটি বাতিল করা হয়েছে, তবে অব্যাহতির সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যাডভোকেট নয়ন মোল্লা দাবি করেছেন, হাফসা আক্তারকে লুৎফর রহমান নির্যাতন করতেন। সেই কারণে হাফসা তাকে আইনগতভাবে তালাক দিয়ে নয়ন মোল্লাকে বিয়ে করেছেন। এছাড়া প্রবাসীর কোনো অর্থ বা স্বর্ণালংকার তিনি নেননি বলে দাবি করে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং তিনি বিষয়টি নিয়ে আইনগত সহায়তা গ্রহণ করেছেন।

















