নিখোঁজ সন্তানদের খুঁজে পাওয়ার আকুল আবেদন নিয়ে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে জড়ো হয়েছিলেন অন্তত ৩০টি পরিবারের সদস্য। ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে স্বজনরা তাদের নিখোঁজ সন্তানদের ছবি ও নিখোঁজ হওয়ার তারিখ সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন। নিখোঁজ স্বজনদের কথা বলতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দ্রুত সন্তান উদ্ধারে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও পুলিশের বিশেষ টিম গঠনের জোরালো দাবি জানান। জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহায়তায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে স্বপ্না আক্তার জানান, গত বছরের ২৯ আগস্ট পল্লবীর বাসা থেকে তার তিন বছর বয়সী মেয়ে রূপা নিখোঁজ হয়। সিসিটিভি ফুটেজে এক তরুণকে তাকে নিয়ে যেতে দেখা গেলেও এক বছরেও মেয়ের সন্ধান মেলেনি। একইভাবে লালবাগ থেকে ২০১৮ সালে নিখোঁজ হওয়া শিশু সকালের বাবা ইসমাঈল হাসান অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রশাসনের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পাননি তিনি। এছাড়া রাজবাড়ীর পাংশা থেকে নিখোঁজ মো. তামিম, ঝিনাইদহের মো. আলী, সাভারের যাদব কর্মকার এবং দোহার থেকে নিখোঁজ তোহা আদনানের স্বজনরাও অনুষ্ঠানে তাদের কষ্টের কথা জানান। চম্পা বেগম জানান, আড়াই বছর আগে নিখোঁজ সামিয়াকে টিকটকে খুঁজে পাওয়ার পরও পুলিশের সহযোগিতা পাননি তিনি। দিনাজপুরের মানতাশার বাবা মনিরুজ্জামান মনির জানান, মুক্তিপণ দেওয়ার পরও মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজের ১৭ হাজার ৮০৮টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪ এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৩৮ জন শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, ছোট শিশুরা পথ হারিয়ে নিখোঁজ হয়, অন্যদিকে কিশোর-কিশোরীদের নিখোঁজের পেছনে পারিবারিক কলহ, অভিমান বা স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের ইচ্ছার মতো কারণ থাকতে পারে।
জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. সাদাত রহমান জানান, শিশু মুনতাহা হত্যাকাণ্ডের পর ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’-এর আদলে বাংলাদেশে ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ (মুন অ্যালার্ট) ও টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯-এর পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত নিখোঁজের ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্ত এবং পাচার প্রতিরোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ (মুন অ্যালার্ট) ও টোল হেল্পলাইন ১৩২১৯-এর পাইলট কার্যক্রম চালু করা হয়।

















