রাজধানীর খিলক্ষেতে নিজের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে ডিজে পার্টির অভিযোগের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে মাদক উদ্ধার ও ৮৪ জনকে আটকের ঘটনায় অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের রিঅ্যার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত জহিরকে ‘পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হওয়া এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন’ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই আদেশ ২৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তাকে রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে (পিএসটিএস) সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর ভোর রাতে খিলক্ষেতের পুলিশ হাউজিং আবাসিক এলাকায় ওই কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বাড়িতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল।
আলোচনায় আসা এই অভিযানের পর ডিবি জানায়, বাড়িটিতে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলছিল। অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা, মদ এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ সময় ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৪ জনকে আটক করা হয়।
এমন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অতিরিক্ত ডিআইজিকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, এই ঘটনার ফলে জনমনে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি ‘চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে’। প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের এই কর্মকাণ্ডকে ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত, অকর্মকর্তাসুলভ এবং বিভাগীয় নিয়ম-শৃঙ্খলা পরিপন্থি’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ শাস্তিযোগ্য অপরাধে তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

















