ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার আর্জেন্টিনা ফাইনালে স্পেনের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে। ইয়ামালদের দাপটের সামনে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা যেন পাত্তাই পেল না। ১-০ গোলের জয় নিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নিল স্পেন। পুরো ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে মেসির দল একবারের জন্যও প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট চেনার সুযোগ পায়নি। এমন চিত্র ফুটবল বিশ্ব শেষবার দেখেছিল ১৯৬৬ সালে, যখন কোনো একটি দল পুরো ম্যাচে গোলপোস্টে কোনো আক্রমণই করতে পারেনি।
পুরো ম্যাচে লিওনেল মেসি যেন মাঠে থেকেও ছিলেন না। কোনো সুযোগ তৈরি করতে না পারার পাশাপাশি গোলও পাননি তিনি। এই হারে আর্জেন্টিনা যেমন শিরোপা হারাল, তেমনি মেসিও বঞ্চিত হলেন গোল্ডেন বুট থেকে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি গোল করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ও গোল্ডেন বুট নিজের করে নিয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবারের আসরে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেও মেসি গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি এবং বিশ্বকাপে মোট ২২ গোল করেও সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষস্থান অধরাই রয়ে গেল তার।
মেসির ভক্তদের কাছে ব্যক্তিগত অর্জনের গুরুত্ব অনেক থাকলেও, এবারের বিশ্বকাপ কিংবদন্তি এই খেলোয়াড়কে কেবল স্বপ্ন ভাঙার বেদনা দিয়ে গেল। ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির বয়স হবে ৪২ বছর, তাই ধারণা করা হচ্ছে এটিই ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ। নেইমার, রোনালদো, হ্যারি কেন ও লুকা মদ্রিচের মতো তিনিও হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের পথ বেছে নেবেন। গ্যালারিতে বসে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ দেখার অপেক্ষাতেই হয়তো থাকতে হবে এই জাদুকরকে।
সব হতাশা ও অপ্রাপ্তি সত্ত্বেও মেসি চিরকাল কিংবদন্তি হয়েই থাকবেন। ইতিহাস সাক্ষী দেবে একজন ফুটবল জাদুকরের কথা, যার বাঁ পায়ের জাদুতে আর্জেন্টিনা বিশ্বজয় করেছিল। মহাকাব্য লেখার শেষটা অপ্রাপ্তির পাতায় রয়ে গেলেও, ফুটবলের চূড়ান্ত শিখরে ওঠার পথে তার অবদান অনস্বীকার্য।

















