২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় পাওয়া শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি জেলা, উপজেলা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং আত্মগোপনে থাকা নেতাদেরও দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
দলের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক সচল রাখার অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন এবং দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত দেশের অন্তত ১৭টি জেলায় উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি ঘোষণা বা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের তথ্য পাওয়া গেছে। কোথাও পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে, আবার কোথাও সমন্বয়কারী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে নেতৃত্ব ঠিক করা হয়েছে। এসব অধিকাংশ কমিটিই অনলাইনে ঘোষণা করা হয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে ঢাকা মহানগর উত্তরের বিভিন্ন থানা ও ২৩টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগ, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটিও সম্প্রতি নতুন করে সাজানো হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধানত চারটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে—কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া সক্রিয় কর্মী, স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাদের সাথে সখ্য বা আত্মীয়তা থাকা ব্যক্তি, এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং বিদেশে বা কারাগারে থাকা নেতাদের অর্থের জোগান দেওয়ার সক্ষমতা। ঝটিকা মিছিল করার সক্ষমতা এবং অনলাইন প্রচারের সক্রিয়তাকেও সাংগঠনিক মূল্যায়নের মানদণ্ড করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও মির্জা আজমসহ বেশ কয়েকজন নেতার প্রভাব তৃণমূল পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ গত ডিসেম্বরে শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কার বা নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। দলের অনেক নেতা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অপরিবর্তিত রেখে তৃণমূল পুনর্গঠনের এই কৌশল মূলত অস্তিত্ব রক্ষার প্রচেষ্টা। দলের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অনেকেই বর্তমানে কারাগারে বা দেশের বাইরে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের কমিটি ও অনলাইন তৎপরতা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে দলের ভেতরেই প্রশ্ন রয়েছে। অতীতের কর্মকাণ্ডের আত্ম-সমালোচনা এবং রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া কেবল কমিটি পুনর্বিন্যাস করে হারানো জন-আস্থা ফেরানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে অধিকাংশ নেতাই অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

















