বাংলাদেশ

নারী-পুরুষ বৈষম্য: শিক্ষা-স্বাস্থ্যে অগ্রগতি, অর্থনীতি-রাজনীতিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ

প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ চলাকালে বিধ্বস্ত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ চলাকালে বিধ্বস্ত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এইচএসসি পাসে ব্র্যাকে চাকরি, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদনের সুযোগ এইচএসসি পাসে ব্র্যাকে চাকরি, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদনের সুযোগ অডিও ফাঁসের ঘটনায় ওএসডি ওসি রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ অডিও ফাঁসের ঘটনায় ওএসডি ওসি রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ দেশের আট জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা দেশের আট জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেল জাতিসংঘ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেল জাতিসংঘ নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা তারেক রহমানের, মোদির ধন্যবাদ নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা তারেক রহমানের, মোদির ধন্যবাদ জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রেস সচিব জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রেস সচিব লালমাইয়ে ট্রাকচালক আবদুর রশিদের লাশ উদ্ধার, আটক ৩ লালমাইয়ে ট্রাকচালক আবদুর রশিদের লাশ উদ্ধার, আটক ৩ আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চাইল দুদক আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চাইল দুদক দত্তক নেওয়া সন্তানকে কি জাকাত দেওয়া জায়েজ? দত্তক নেওয়া সন্তানকে কি জাকাত দেওয়া জায়েজ?
সব খবর

নারী-পুরুষ বৈষম্য কমানোর বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশ এক বছরে ৫৫ ধাপ পিছিয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০২৬’ বা ‘বৈশ্বিক লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য প্রতিবেদন ২০২৬’-এ এই তথ্য উঠে এসেছে। ১৪৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এবার ৭৯তম, যা গত বছর ছিল ২৪তম। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে নারী-পুরুষের সমতার চিত্র ইতিবাচক হলেও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে বড় পতনের কারণে এই অবনতি হয়েছে। তবে এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সামগ্রিক স্কোর ৭১ দশমিক ২ শতাংশ, যা গত বছরের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। এটিকে প্রতিবেদনটিতে বিশ্বের অন্যতম বড় পতন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০০৬ সালের তুলনায় বাংলাদেশের স্কোর এখনো ৮ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। সিপিডি-র সম্মানীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অবনতি হয়েছে। শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ কিছুটা দেখা গেলেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপনার পদে নারীর উপস্থিতি নগণ্য, যা কাঠামোগত সমস্যা নির্দেশ করে। এসব কারণে বাংলাদেশের স্কোর কমেছে।

বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের স্কোরে বড় পতন। এ ক্ষেত্রে স্কোর ৭২ দশমিক ১ থেকে কমে ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে এবং অবস্থান তৃতীয় থেকে নেমে ১২তম হয়েছে। ২০২৪ সালে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর গঠিত নতুন সংসদে নারীরা মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ আসন পেয়েছেন, যা সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এযাবৎকালের সর্বনিম্ন সমতার স্কোর। এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯তম। মন্ত্রিসভায় নারীর প্রতিনিধিত্ব ১৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। তবে দুই দশকে মন্ত্রিসভায় নারী-পুরুষ সমতার স্কোর ৯ দশমিক ১ থেকে বেড়ে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বড় পতনের পরও বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলক ভালো হওয়ার কারণ নারী সরকারপ্রধান থাকার দীর্ঘ ইতিহাস। এ সূচকে বাংলাদেশ ২০১৯ সাল থেকে পূর্ণ সমতার স্কোর ধরে রেখেছে এবং যৌথভাবে প্রথম অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্বল ক্ষেত্র অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ। এ ক্ষেত্রে স্কোর ৪৫ দশমিক ৭ থেকে কমে ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে, যা ১৪৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানকে ১৪২তম স্থানে নিয়ে গেছে; গত বছর ছিল ১৪১তম। এক বছরে আনুমানিক আয়ের সমতার স্কোর ১৫ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের সমতার স্কোর কমেছে ৫ দশমিক ৭ এবং জ্যেষ্ঠ পদে প্রতিনিধিত্বের স্কোর কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট। নারীর আনুমানিক বার্ষিক আয় ৪ হাজার ৬৭০ ডলার, যেখানে পুরুষের আয় ১২ হাজার ৪৪০ ডলার। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের মধ্যে নারী মাত্র ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ, যেখানে পেশাজীবী ও কারিগরি কর্মীদের মধ্যে নারীর অংশ ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৩৮ দশমিক ৪১ শতাংশ, যেখানে পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৭৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ২০০৬ সালে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের সমতার স্কোর ছিল ৬১ দশমিক ১ শতাংশ, যা এবার কমে ৪৮ শতাংশ হয়েছে। নারীদের বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক ও খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত। নারী কর্মীদের ৯৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, যেখানে পুরুষের ক্ষেত্রে এ হার ৭৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। কর্মজীবী নারীদের ৫৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ খণ্ডকালীন কাজ করেন, পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, অর্থনীতিতে নারীদের জন্য সুযোগ আগের মতোই আছে বা বেড়েছে, তবে তাঁদের অংশগ্রহণ কমেছে। তিনি মনে করেন, তৈরি পোশাক খাতে মালিকেরা নারী শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দিলেও শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবার ছেড়ে শহরে আসার ক্ষেত্রে সামাজিক ঝুঁকি, শারীরিক সুরক্ষা ও মানসিক চাপ নেওয়ার প্রবণতা কমে যাওয়া এবং গ্রামে কৃষি বা অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক খাতে নারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এর পেছনে কারণ হতে পারে।

শিক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমতার স্কোর হয়েছে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ, যা বাংলাদেশের এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। ২০০৬ সালের তুলনায় স্কোর বেড়েছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় বাংলাদেশ পূর্ণ সমতা অর্জন করেছে। তবে উচ্চশিক্ষায় ব্যবধান রয়ে গেছে; উচ্চশিক্ষায় নারীর ভর্তির হার ২০ দশমিক ৭৯ এবং পুরুষের ২৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। নারীর সাক্ষরতার হার ৭৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যেখানে পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৮১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

স্বাস্থ্য ও টিকে থাকার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ৯৬ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় স্কোর অপরিবর্তিত থাকলেও অবস্থান ১২৩তম থেকে ১২০তম হয়েছে। জন্মের সময় নারী-পুরুষের অনুপাতের সূচকে বাংলাদেশ পূর্ণ সমতার মান অর্জন করেছে। তবে ২০১৪ সালের পর থেকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত আয়ুতে সমতা সামান্য কমেছে। নারীর সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত আয়ু ৬২ দশমিক ৯৮ বছর এবং পুরুষের ৬৩ দশমিক ১৪ বছর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ নারীর বাল্যবিবাহ হয় এবং ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ নারী জীবদ্দশায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হন। দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতিতে সন্তান প্রসবের হার ৫৯ শতাংশ এবং প্রতি ১ লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যু ১১৫। পরিবার পরিকল্পনার চাহিদা পূরণ হচ্ছে না ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ১০ শতাংশ নারীর। নারীদের জন্য বেতনসহ অভিভাবকত্বকালীন ছুটি ১১২ দিন থাকলেও পুরুষদের জন্য এমন ছুটি নেই। প্রতিবেদনে নারীর বিবাহবিচ্ছেদের অধিকারকে অসম এবং প্রজননস্বাধীনতাকে সীমিত বলা হয়েছে।

সামগ্রিক অবস্থানে বড় পতনের পরও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ প্রথম অবস্থানে রয়েছে। মালদ্বীপ ১১৯তম, নেপাল ১২০তম, ভুটান ১২১তম, শ্রীলঙ্কা ১২৯তম, ভারত ১৩১তম এবং পাকিস্তান ১৪৩তম। আটটি অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বর্তমান গতিতে এই অঞ্চলের নারী-পুরুষ ব্যবধান পুরোপুরি দূর করতে আরও ১৪৯ বছর লাগবে বলে ডব্লিউইএফের পূর্বাভাস। বিশ্বে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড, এরপর ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, নামিবিয়া ও যুক্তরাজ্য। সবচেয়ে নিচে রয়েছে চাদ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে নারী-পুরুষের ব্যবধান এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কম, ৬৯ দশমিক ২ শতাংশ দূর হয়েছে। তবে বর্তমান গতিতে পুরো সমতা অর্জন করতে আরও ১২০ বছর লাগবে, অর্থাৎ এখন বেঁচে থাকা নারীরা তাঁদের জীবদ্দশায় পূর্ণ নারী-পুরুষ সমতা দেখে যেতে পারবেন না।

অর্থনীতি ও শিক্ষার তথ্য মূলত ২০২৩-২৫ সালের এবং স্বাস্থ্যের তথ্য ২০২১-২৪ সালের।

নারী সরকারপ্রধানের হিসাব নেওয়া হয়েছে ১৫ জুন ১৯৭৬ থেকে ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ চলাকালে বিধ্বস্ত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ চলাকালে বিধ্বস্ত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এইচএসসি পাসে ব্র্যাকে চাকরি, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদনের সুযোগ এইচএসসি পাসে ব্র্যাকে চাকরি, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদনের সুযোগ অডিও ফাঁসের ঘটনায় ওএসডি ওসি রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ অডিও ফাঁসের ঘটনায় ওএসডি ওসি রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ দেশের আট জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা দেশের আট জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেল জাতিসংঘ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেল জাতিসংঘ নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা তারেক রহমানের, মোদির ধন্যবাদ নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা তারেক রহমানের, মোদির ধন্যবাদ জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রেস সচিব জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রেস সচিব লালমাইয়ে ট্রাকচালক আবদুর রশিদের লাশ উদ্ধার, আটক ৩ লালমাইয়ে ট্রাকচালক আবদুর রশিদের লাশ উদ্ধার, আটক ৩ আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চাইল দুদক আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চাইল দুদক দত্তক নেওয়া সন্তানকে কি জাকাত দেওয়া জায়েজ? দত্তক নেওয়া সন্তানকে কি জাকাত দেওয়া জায়েজ?
সব খবর