জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নজরদারির জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তৃতায় তিনি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এই আহ্বান জানান।
ফলকার টুর্ক বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের ওপর নজরদারি করতে পারে, এমন একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আসছি।’ তিনি বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বারবার গুরুত্বারোপ করেছেন। এসব সংস্থার কাজের বিষয়ে স্বাধীন নজরদারির জন্য আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এতে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ড তদারকিতে স্বাধীন নজরদারির পাশাপাশি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বেসামরিক নজরদারি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন তদারকির জন্য স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত জাতিসংঘের বিভিন্ন ট্রিটি বডির সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কমিশনের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ নিশ্চিত করা এবং প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগপ্রক্রিয়া চালুর কথাও বলা হয়েছিল।
তবে, বাংলাদেশে সম্প্রতি প্রণীত গুমবিরোধী আইন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত আইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার সংগঠন ও আইনবিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, আইনগুলোতে প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা, তদন্তক্ষমতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে।
তিনি এসব সংস্থার কাজের বিষয়ে স্বাধীন নজরদারির জন্য আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিক্ষোভে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে ৪৪টি সুপারিশ করা হয়।

















