পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, সেবা প্রদানে হয়রানি এবং গোপন কক্ষে ডেকে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাসের মতো গুরুতর সব অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের চণ্ডীপুর এলাকার খানমরিচ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে আয়োজিত এক গণশুনানিতে সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম স্থানীয়দের বিভিন্ন প্রশ্ন, অভিযোগ ও সমস্যার কথা ধৈর্যসহকারে শোনেন। অভিযোগকারী ব্যক্তিরা জানান, ভূমি অফিসে সেবা পেতে গেলে তাদের দীর্ঘসূত্রতা ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। ঘুষ ছাড়া অনেক কাজই সম্পন্ন হয় না এবং সেবা প্রত্যাশীদের গোপন কক্ষে দেখা করার পর কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় বলেও তারা দাবি করেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং একপর্যায়ে গণশুনানিতেই ওই কর্মকর্তার বদলির দাবি তোলেন। উপস্থিত সাধারণ জনগণ করতালির মাধ্যমে এই দাবির প্রতি জোর সমর্থন জানান।
অভিযোগগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার পর জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং আগামীতে এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ভূমি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি বা অনিয়মের শিকার না হন, সেজন্য প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি জরুরি। একই সঙ্গে গণশুনানিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
গণশুনানিতে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা হুমায়ুনের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অনুষ্ঠানে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান, খানমরিচ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন, খানমরিচ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের রানাসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং ভূমি অফিসকে হয়রানিমুক্ত করবে।

















