পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলনিয়া গ্রামের ১০ বছর বয়সী শিশু কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজের সাত দিন পর তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ মোস্তফা কামাল (৫৫) ও ইয়াছিন আলী (২১) নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ব্রিফিং শেষে অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কামাল প্রামাণিকের মেয়ে কলি নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের সময় বস্তার ভেতরে ইটসহ বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়, যা লাশ ডুবিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রথমে ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরদিন রাতে বস্তাবন্দি মরদেহটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের তৎপরতা ও বাড়ি বাড়ি তল্লাশির ঘোষণার মুখে অভিযুক্তরা মরদেহ অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করেছিল, তবে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় তারা সেটি ফেলে পালিয়ে যায়।
তদন্তে গ্রেপ্তারকৃত মোস্তফা কামালের মোবাইল ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের দিন শিশুটির তোলা কয়েকটি ছবি মুছে ফেলা হলেও প্রযুক্তিগত সহায়তায় পুলিশ তা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ বলছে, এসব আলামত ঘটনার পূর্বপ্রস্তুতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ১৭ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তভার পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হবে এবং তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

















