অপরাধ

কাতারে উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিবেদক
সব খবর

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ৩০

বাগেরহাটের মোংলায় কাতারপ্রবাসী এনামুল ফকিরের উপার্জিত অর্থ ও প্রায় ৭ থেকে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী তানজিলা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এনামুল ফকির মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পাশাপাশি তিনি তার স্ত্রী তানজিলার সঙ্গে খলিল নামে এক ব্যক্তির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কেরও অভিযোগ তুলেছেন। তবে তানজিলা ও খলিল উভয়েই এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে এনামুল ফকির তানজিলা বেগমকে বিয়ে করেন। সংসারের প্রয়োজনে তিনি কাতারে পাড়ি জমান। এনামুলের দাবি, প্রবাসে থাকাকালীন তিনি নিয়মিত পরিবারের জন্য অর্থ পাঠাতেন এবং স্ত্রীর ব্যবহারের জন্য স্বর্ণালংকার তৈরি করে দিয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর স্ত্রীর সঙ্গে খলিল নামে এক ব্যক্তির কথিত সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এই বিরোধের জের ধরে তিনি প্রবাসে উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালংকার ফেরত চাইলে স্ত্রী তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানান।

এনামুলের অভিযোগ, এ সময় তাকে আসল স্বর্ণের পরিবর্তে সিটি গোল্ডের কিছু অলংকার গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যা পরে স্বর্ণের দোকানে যাচাই করে সিটি গোল্ড হিসেবে নিশ্চিত হওয়া যায়। গত ৯ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চাওয়া নিয়ে স্ত্রী তানজিলার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় তার শ্বশুর ও শ্যালক তাকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের হুমকি দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে তিনি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে তানজিলা বেগম দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এদিকে, খলিলের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করে খলিল বলেন, এনামুল যে দাবি করছেন তার সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। খলিলের সাবেক স্ত্রী জানান, চার বছর বয়সী তাদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে এবং খলিলের অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি তাকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। স্থানীয়দের মতে তানজিলাকে ঘিরে অতীতেও নানা আলোচনা ছিল, তবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অর্থ ও স্বর্ণ আত্মসাৎ এবং কথিত সম্পর্কের বিষয়টি পুলিশের তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

সব খবর