ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় গরু ব্যবসায়ী আবুল বাশার হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় আসামি সাইদুল ইসলাম জমাদার ও তার স্ত্রী সালমা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ। গত রোববার সকালে দক্ষিণ আইচা থানার নজরুল নগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার দুপুরে সাইদুল ইসলামকে আদালতে পাঠানো হলেও তার স্ত্রী সালমা বেগম অসুস্থ হওয়ায় তাকে পুলিশ হেফাজতে রেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মামলার এজাহার ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে সালমা বেগম মোবাইল ফোনে আবুল বাশারকে তার বাড়িতে ডাকেন। স্থানীয় বাবুর হাট বাজারে অবস্থানরত বাশার সালমার ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের বাড়িতে যান। অভিযোগ রয়েছে, বাড়িতে নেওয়ার পর তাকে শরবতের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে খাওয়ানো হয় এবং পরে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বাড়ির পুকুরে খুঁটি গেড়ে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাশারের গলা ও পেট কাটা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের ছোট ভাই ইব্রাহিমের অভিযোগ, সালমা ও তার স্বামী সাইদুল অত্যন্ত দুর্বৃত্তপরায়ণ। জুয়েল নামে এক ব্যক্তির কাছে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তাদের একটি মামলা চলছিল। ওই মামলায় জুয়েলকে ফাঁসাতে না পেরে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নতুন একটি মামলা করা হয়। সেই মামলায় সাক্ষী হিসেবে আবুল বাশারের নাম রাখা হয়েছিল। কিন্তু বাশার মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে হত্যা করেন।
এই ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল কাশেম বাদী হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে দক্ষিণ আইচা থানায় মামলা দায়ের করেন। দক্ষিণ আইচা থানার ওসি আহসান কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামি সাইদুল ইসলাম জমাদারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তার স্ত্রী সালমা বেগম অসুস্থ থাকায় পুলিশ হেফাজতে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

















