কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে একটি মসজিদ থেকে মাওলানা শামিম মিয়া (২৮) নামের এক ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় তার বন্ধু সোহান মিয়া (২১) গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরঝাকালিয়া এলাকার ইছাম উদ্দিন বাড়ির মসজিদে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত শামিম একই গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে এবং ওই মসজিদের ইমাম ছিলেন। আহত সোহান একই এলাকার মৃত সৈয়দুজ্জামানের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শামিম ও সোহান প্রতিদিন মসজিদের একটি কক্ষে একসঙ্গে থাকতেন। রাত দেড়টার দিকে মসজিদের ভেতর থেকে হৈচৈয়ের শব্দ শুনে স্থানীয়রা সেখানে ছুটে যান। তারা সোহানকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরবর্তীকালে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, আহত সোহানকে কে আঘাত করেছে জানতে চাইলে তিনি ইমাম শামিমের নাম বলেছিলেন। তবে শামিম সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন। এরপর সকালে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে স্থানীয়রা মসজিদ তালাবদ্ধ করে দেন। কিন্তু ফজরের নামাজের আগে মসজিদসংলগ্ন কক্ষে শামিমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শামিমের মরদেহ উদ্ধার করে।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল আলম রফিক জানান, দুজন একই কক্ষে থাকতেন এবং ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কটিয়াদী সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানান, বন্ধুকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ভয় পেয়ে শামিম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আহত সোহান সুস্থ হয়ে কথা বললে ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।

















