লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনের অদূরে বান কিউনে চীন ও লাওসের যৌথ প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের বিষয়টি সামনে এসেছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টরের তোলা ৩০ সেপ্টেম্বরের ছবিতে নির্মাণাধীন একটি রানওয়েতে আটটি কে-৮ হালকা যুদ্ধবিমান এবং দুই ডজনের বেশি সহায়ক সামরিক যান দেখা গেছে। এর একদিন আগেই চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় লাওসে এই যৌথ প্রশিক্ষণ স্থাপনা তৈরির ঘোষণা দিয়েছিল। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ছবিতে দৃশ্যমান বিমানগুলো মূলত হংডু জেএল-৮ বা কে-৮ মডেলের, যা চীন ও লাওসের বিমানবাহিনী প্রশিক্ষণ এবং হালকা হামলার কাজে ব্যবহার করে থাকে। চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে এই বিমানগুলো তৈরি করেছে।
এই ঘাঁটির দ্রুত নির্মাণকাজ আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অনেকের ধারণা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি চীনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বিদেশি সামরিক ঘাঁটি হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক র্যাচেল ভ্যানডেনব্রিঙ্ক জানান, বান কিউনের ভৌগোলিক অবস্থান এবং চীন-লাওস সীমান্ত ও রেলপথের মতো অবকাঠামোগত যোগাযোগের কারণে এই জায়গাটি অত্যন্ত কৌশলগত। বিশ্লেষকদের মতে, এখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার কিংবা নজরদারি স্থাপনা তৈরি হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। এসব স্থাপনা যুক্ত হলে ঘাঁটিটি প্রশিক্ষণের বাইরে বড় ধরনের সামরিক কাজে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার নিল মনে করেন, বর্তমানে রানওয়েটি ছোট হলেও ভবিষ্যতে এটি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বড় বিমান কিংবা গোয়েন্দা ও ইলেকট্রনিক নজরদারি বিমান পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। উল্লেখ্য, বান কিউনের এই স্থানটির সামরিক ইতিহাস বেশ পুরনো। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় এখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন বিমানঘাঁটি ছিল, যা ‘লিমা সাইট ৪৪’ নামে পরিচিত। সিআইএ পরিচালিত এয়ার আমেরিকা সেই ঘাঁটিটি ব্যবহার করত এবং সেখান থেকে হমং যোদ্ধা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম পরিবহন করা হতো। এই নতুন সামরিক স্থাপনার বিষয়ে রয়টার্স চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ব্যাংককে লাওসের দূতাবাস এবং লাওসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

















