রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার পর শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ মধ্যরাত পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকেই ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই মাসকে স্মরণীয় করে রাখতে তারা ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক দিনব্যাপী একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। তাদের অভিযোগ, প্রদর্শনীতে থাকা ‘জুডিসিয়াল কিলিং’ শিরোনামের একটি ফেস্টুন নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আপত্তি তুললে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে তারা শিবির কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে শিবিরের বেশ কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, ভিন্ন দাবি করেছে ছাত্রদল। বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন জানান, প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজাকারদের ছবি সম্বলিত একটি ফেস্টুন দেখে তারা প্রতিবাদ করতে যান। এ সময় ছাত্রদলের এক সহ-সভাপতির ওপর চেয়ার দিয়ে হামলা চালানো হয়। এরপরই মূলত দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ইয়ামিন আরও বলেন, জুলাই নিয়ে প্রদর্শনী আয়োজনে তাদের আপত্তি ছিল না, তবে বিতর্কিত ফেস্টুন নিয়েই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
রাত ১১টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, প্রদর্শনীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হলেও তা ছাত্রশিবিরের নামে ছিল না। পরে দুই সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

















