ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বামপন্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি থমথমে হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভ দমনে দিল্লিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। শনিবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও জাতিসংঘের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক শশী থারুর দিল্লিতে পুলিশের পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনীর এই যুদ্ধকালীন মোতায়েনকে লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, রাত ২টার পর দিল্লিতে ফিরে এমন পরিস্থিতি খুব কমই দেখেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নাগরিকেরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রশ্ন তুলতে না পারেন, সে জন্যই চলাচলের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়ার কঠোর সমালোচনা করে শশী থারুর একে পশ্চাৎমুখী ও দমনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন এড়াতে সরকার নিজের রাজধানীকেই দুর্গে পরিণত করেছে, যা মানুষের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ব্যারিকেড দিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা ফেরানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব, বামপন্থী ছাত্র নেত্রী নেহা বোরা, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করেছে পুলিশ। বিবিসি জানিয়েছে, সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে বিমান থেকে নামার পরপরই আটক করা হয়। এছাড়াও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে তার বাড়ি থেকে এবং সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক লিদিয়া পলগ্রিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, দিল্লির রাস্তায় পুলিশি তাণ্ডব চলছে এবং যাকে পাচ্ছে তাকেই ধরে বাস ও পুলিশের ভ্যানে তুলে নেয়া হচ্ছে।

















