ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন করে ভারত সরকার যে শুধু বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের নয়, বরং দেশের ২০ কোটি মানুষের প্রকৃত বন্ধু, তা প্রমাণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। বুধবার বিকেলে রংপুর নগরীর ডিসির মোড় এলাকায় শ্যামাসুন্দরী খাল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর ধরে প্রতিবেশী দেশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে ফারাক্কা চুক্তি করেছিলেন, আগামী ১২ ডিসেম্বরের পর সেই আদলেই চুক্তিটি নবায়ন করা হবে। তিনি আরও জানান, ফারাক্কা চুক্তি নিয়ে গত জুনে কোলকাতায় দুই দেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি টিম গঠন করা হয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এমনকি ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও বাংলাদেশ তার স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ। খুব দ্রুতই ডিপিপি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হবে। দীর্ঘস্থায়ী সুফল নিশ্চিত করতে চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার পরামর্শকদের মতামত গ্রহণ করা হবে।
রংপুর নগরীর শ্যামাসুন্দরী খালের উন্নয়নে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান প্রকল্প সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ১৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বাকি ৮২ শতাংশ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, খালের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়লা-আবর্জনা ফেলা রোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি সিসিটিভি মনিটরিং এবং জরিমানার ব্যবস্থাও করা হবে। খাল খনন ও পুনর্খননের মাধ্যমে শহরকে দূষণমুক্ত করার এই উদ্যোগে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
পরিদর্শনকালে রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল ইসলাম এবং যুবদল কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নাজমুল আলম নাজুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

















