নতুন এক যুগে পা রাখছে উরুগুয়ে জাতীয় ফুটবল দল। রোববার উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, লা সেলেস্তের অন্তর্বর্তী প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সাবেক কিংবদন্তি স্ট্রাইকার দিয়েগো ফোরলান। ২০২৬ বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর গ্রুপ পর্ব থেকে দলটির বিদায় নিশ্চিত হলে মার্সেলো বিয়েলসা পদত্যাগ করেন। এরপরই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি ফোরলানের কাঁধে তুলে দেওয়া হলো।
৪৭ বছর বয়সী ফোরলানের জন্য এই নতুন অধ্যায়টি তার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দহীন উরুগুয়েকে নতুন করে ঢেলে সাজানো এখন তার মূল লক্ষ্য। এর আগে বিশ্বকাপে বড় প্রত্যাশা থাকলেও স্পেন, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরবের পেছনে থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল উরুগুয়েকে। সেই ব্যর্থতার দায় নিয়ে আর্জেন্টাইন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ফোরলানের সাথে প্রাথমিক চুক্তিটি ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এরপর তার পারফরম্যান্স মূল্যায়ন সাপেক্ষে ফেডারেশন সিদ্ধান্ত নেবে যে, তার মেয়াদ বাড়ানো হবে নাকি পরবর্তী বিশ্বকাপ চক্রের জন্য নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে। সিনিয়র দলের পাশাপাশি ফোরলান উরুগুয়ে অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচের দায়িত্বও পালন করবেন। বিশেষ করে ২০২৭ সালের দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিভা তৈরিতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ফোরলানের এই নিয়োগ উরুগুয়ের ফুটবল ইতিহাসে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। ২০১০ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঁচ গোল করে এবং গোল্ডেন বল জিতে তিনি লা সেলেস্তেকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ভিয়ারিয়াল ও আতলেতিকো মাদ্রিদের মতো ক্লাবে খেলা এই সাবেক ফরোয়ার্ড তার নেতৃত্বগুণ ও ফিনিশিং দক্ষতার জন্য পরিচিত। যদিও কোচ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা এখনো সীমিত, কারণ তিনি পেনিয়ারলে ১১টি এবং সিএ আতেনাসে ১২টি সরকারি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিয়েলসার অধীনে দলের যে কৌশলগত অসামঞ্জস্য ও রক্ষণভাগের দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠাই হবে ফোরলানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দলে থাকা অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ও নতুন প্রতিভাদের সমন্বয়ে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েই তিনি কাজ শুরু করছেন। ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ জয়ী উরুগুয়ে তার হাত ধরে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ সারিতে ফিরে আসবে, এমনটাই প্রত্যাশা ফুটবলপ্রেমীদের।

















