প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ২৩। বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ আমলের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার নীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ। মঙ্গলবার ডাকসু সংগ্রহশালা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
সম্প্রতি ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্যের ছবি ও উদ্ধৃতি প্রদর্শন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এই ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া বিবৃতির কড়া সমালোচনা করে এস এম ফরহাদ বলেন, গত ৫০ বছরের ইতিহাসে কোনো ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ‘কঠোরভাবে প্রতিহত করবে’—এমন ভাষায় বিবৃতি দিতে তিনি দেখেননি। তার মতে, প্রশাসন যেন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পোস্ট হুবহু কপি করে নিজেদের পেজে দিয়েছে।
এস এম ফরহাদ আরও বলেন, ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে জিন্নাহর সেই সময়ের উর্দুর পক্ষে ও বাংলার বিপক্ষে বক্তব্যটি উদ্ধৃত করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ভিসি ও প্রো-ভিসি স্যার বলছেন যে, এই অপরাধের কারণেই তারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, জিন্নাহর এই বক্তব্য চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির বাংলা এবং ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়েও উল্লেখ রয়েছে। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কিংবা যেসব শিক্ষক এই বইগুলো লেখার পেছনে শ্রম দিয়েছেন, তাদের চাকরিচ্যুত করবে?
উপাচার্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সংগ্রহশালা উদ্বোধনের আগে উপাচার্য দুইবার সেখানে পরিদর্শন করেছেন এবং কাজের অগ্রগতি দেখেছেন। ডাকসুর সভাপতি হিসেবে তিনি চাইলে তখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের কথার প্রেক্ষিতে দলীয় বিবৃতি হুবহু কপি করে পেজে দিয়েছেন।
অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলের সঙ্গে তুলনা করে ফরহাদ বলেন, গত ৫০ বছরে এমনকি সামরিক সরকার বা বিএনপির আমলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘কঠোরভাবে প্রতিহত করবে’—এমন ভাষায় তাৎক্ষণিক বিবৃতি দেয়নি। বর্তমান প্রশাসনের এই অবস্থান অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ সময় তিনি ডাকসু সংগ্রহশালায় হামলা ও সম্পদ ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।

















