নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের মালিকানাধীন ‘জয়িতা’ নামক আটতলা বাড়িতে আদালতের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলার জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১২ নম্বর সেক্টরের ৫০৬ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর প্লটে অবস্থিত এই বাড়িটিতে দিনব্যাপী অভিযান চলে।
দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে বাড়িটির বিভিন্ন কক্ষে থাকা আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর বিস্তারিত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা সম্পদের সঠিক বিবরণ সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের নামে থাকা ভবনটির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট প্রশাসন সিলগালা করেছিল।
দুদকের করা মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, জিয়াউল আহসান ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা এবং আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মামলার বিবরণে আরও বলা হয়েছে, স্ত্রী নুসরাত জাহানের যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
উল্লেখ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত বছরের ৭ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

















