পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার। রোববার সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘোষণার ফলে কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারের সব কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে এবং প্রদেশটিতে এখন গভর্নরের শাসন জারি হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে দিনের শুরুতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া সুপারিশ তিনি অনুমোদন করেছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, মন্ত্রিসভার সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন এবং ‘সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই থেকে প্রাদেশিক সরকারের ইচ্ছাকৃতভাবে সরে থাকার’ বিষয়টি আমলে নিয়েছেন।
কারাবন্দী নেতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআই নেতা-কর্মীরা গত ৪ অক্টোবর থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ থেকে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখী লংমার্চ শুরু করেন। গতকাল শনিবার ছিল লংমার্চের সপ্তম দিন এবং এখনো লংমার্চটি খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশেই অবস্থান করছে।
এর আগে পিটিআই ও কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে গতকাল প্রেসিডেন্ট ভবনে আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরই খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনা জোরালো হয়। এদিকে পিটিআই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, জরুরি অবস্থা জারি কিংবা গভর্নরের শাসন পাখতুনখাওয়ায় কোনো সমস্যার সমাধান আনবে না। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর আগে জানিয়েছিলেন যে, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা এড়ানোর সুযোগ খুব কম।
















