খুলনা নগরের হাদিস পার্কের কাছে অবস্থিত ছয়তলা ভবনের গ্যারেজে শুক্রবার সকাল ১১টায় শোকাতুর স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় জমেছিল। লাশবাহী ফ্রিজার গাড়িটি পৌঁছানোর পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গাড়ি থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রকৌশলী অক্ষর শৌভিক রায়ের নিথর দেহ নামানোর সময় তাঁর মা শুক্লা রায় বারবার আর্তনাদ করে বলছিলেন, ‘আমার অক্ষররে একটু আমার কোলে দাও’। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা।
অক্ষর খুলনা জিলা স্কুল ও নটর ডেম কলেজে পড়াশোনা শেষে ভারতের গুজরাট থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় অক্ষর ঢাকার বনানীতে স্টাডি সলিউশন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব অনেকটাই তাঁর কাঁধে ছিল। উল্লেখ্য, কক্সবাজারে ১০ বছরে ১৯টি দুর্ঘটনা শেষে এই মৃত্যু ঘটল এবং লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল প্যারাসেইলিংয়ের কার্যক্রম।
ঘটনার দিন গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অক্ষরসহ ৯ জন বন্ধু ও সহকর্মীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ২ হাজার টাকায় প্যারাসেইলিংয়ের টিকিট কাটেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট উপরে ওঠার পর হঠাৎ দড়ি ছিঁড়ে তিনি বঙ্গোপসাগরে ছিটকে পড়েন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অক্ষরের চাচা–সম্পর্কীয় স্বজন অপু সিংহ ও ভগ্নিপতি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি প্যারাসেইলিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই এলাকায় অবৈধভাবে প্যারাসেইলিং চলছিল। দুর্ঘটনার সময় সেখানে কোনো উদ্ধারকর্মী ছিল না বলেও তাঁরা দাবি করেন।
নিহত প্রকৌশলীর পরিবার এ ঘটনার বিচার চেয়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। একই সঙ্গে তাঁরা পর্যটন এলাকায় এমন অনিয়ম রোধ এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে রূপসা মহাশ্মশানে শেষকৃত্যের মাধ্যমে অক্ষরকে শেষ বিদায় জানানো হয়।

















