তীব্র তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমে সিরাজগঞ্জের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের কষ্টের সীমা নেই। এমন পরিস্থিতিতে গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে মানুষ এখন তালপাতার হাতপাখার ওপর ভরসা করছে। একসময় গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ থাকলেও বৈদ্যুতিক পাখা ও এসির যুগে হাতপাখার কদর কমে গিয়েছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আবারও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
শহরের বাহিরগোলা বাজার, বউ বাজার, বাজার স্টেশন ও কালিবাড়ি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় হাতপাখা কেনার জন্য ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। চাহিদা বাড়ায় আগের তুলনায় পাখা বিক্রির হারও বেড়েছে। কয়েকদিন আগেও যে হাতপাখা ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় পাওয়া যেত, তা বর্তমানে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবলা সাহা জানান, প্রায় ১০-১২ বছর ধরে তিনি এই পেশায় যুক্ত। গরমের শুরু থেকেই পাখা তৈরির কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং তিনিও নিয়মিত পাখা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।
তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সাধারণ মানুষ ডাব, বাঙ্গি ও ঠান্ডা শরবতের মতো পানীয়ের দিকে ঝুঁকছে, যার ফলে এসব পণ্যের দামও বেশ চড়া। ক্রেতা হাফিজ উদ্দিন জানান, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে হাতপাখা ছাড়া চলা অসম্ভব। শাহীন আলম ও কহিনুর বেগম নামে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিত্যদিনের সঙ্গী হওয়ায় বিকল্প হিসেবে তারা ১০০ টাকায় দুটি পাখা কিনেছেন।
এদিকে, তাড়াশ আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, শনিবার সকালে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এই তাপদাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামের মানুষ স্বস্তির খোঁজে ডোবা, নালা ও পুকুরের পানিতে নেমে সময় কাটাচ্ছেন।
কয়েক দিন আগেও ১ গ্লাস আখের রসের দাম ছিলো ১০ টাকা এখন তা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ।
আগে যে হাতপাখা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ৪৫/৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

















