জীবনের পূর্ণতা কেবল কারও সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না, বরং সিঙ্গেল থাকার মাঝেও রয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্য। নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে কাউকে জবাবদিহি করতে না হওয়া, নিজের পছন্দের জায়গায় ভ্রমণ, পছন্দের খাবার খাওয়া বা গভীর রাত পর্যন্ত প্রিয় গান শোনার স্বাধীনতা সিঙ্গেল জীবনের বড় প্রাপ্তি। অনেকে সিঙ্গেল থাকাকে নেতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করে মন খারাপ করেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো, একা থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিজের প্রতি মনোনিবেশ করা। ক্যারিয়ারে মনোযোগ দেওয়া বা নিজের কাজে পর্যাপ্ত সময় ব্যয় করার সুযোগ এই সময়েই বেশি পাওয়া যায়। তবে সিঙ্গেল জীবনের বাস্তবতা দেশ, সমাজ এবং নারী-পুরুষ ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
আজ ২৩ সেপ্টেম্বর সিঙ্গেল দিবস। রিড নামক এক ব্যক্তি এই দিনটির প্রচলন করেন। শুরুতে এটি পয়লা জানুয়ারি পালিত হলেও ২০১৭ সাল থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দিনটি নির্ধারণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এই দিনে দিবসটি পালিত হলেও চীনে ১১ নভেম্বর সিঙ্গেল ডে পালন করা হয়। ‘ডেজ অব দ্য ইয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, চীনা ছুটির দিন ও নানজিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এর উৎপত্তি। ধারণা করা হয়, ১৯৯০-এর দশকে নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী দিবসটির প্রচলন করেন, কারণ ১১ নভেম্বরের তারিখটিতে চারটি ‘এক’ (১) রয়েছে, যা একক ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করে। বর্তমানে চীনে এটি কেনাকাটা ও ভ্রমণের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি দিন।
অনেকের ধারণা, একা থাকলে হতাশা বাড়ে, কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে যারা একা থাকেন তারা বরং বেশি স্বাধীন ও ভালোভাবে বাঁচেন। ভারতের লখনউয়ের হেলথকেয়ার ক্লিনিকের ক্লিনিকেল সাইকোলজিস্ট ডা. তনু চৌধুরী ২০১৫ সালের এক সমীক্ষায় জানান, অবিবাহিতরা বন্ধু ও পরিবারকে বেশি সময় দিতে পারেন এবং তাদের সামাজিক নেটওয়ার্কও বেশ শক্তিশালী। সিঙ্গেলরা আর্থিকভাবেও বেশি চাপমুক্ত থাকেন, কারণ বিবাহিতদের তুলনায় তাদের সংসারের বাড়তি দায়িত্ব কম থাকে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, সিঙ্গেলদের মধ্যে জিমে যোগদানের হার বেশি এবং তারা স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ায় স্থূলতা বা কার্ডিয়াক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকেন। এছাড়া, বিছানা ভাগাভাগি না করতে হওয়ায় সিঙ্গেলরা অনেক সময় বেশি নিশ্চিন্তে ও গভীর ঘুমাতে পারেন। সম্পর্কের জটিলতা না থাকায় তারা নিজের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করতে পারেন, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও সিঙ্গেল থাকা অবস্থায় বেশি স্বাধীন ও সুখী জীবন যাপন করেন। তাই সিঙ্গেল থাকাকে অসম্পূর্ণতা না ভেবে বরং নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।

















