বিশ্বকাপ ফুটবলের দলসংখ্যা বাড়িয়ে ৬৪ করার একটি সম্ভাবনা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তার মতে, বিশ্বকাপ কেবল ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার মতো নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের জন্য সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং এটি বিশ্বের সব দেশের জন্য একটি স্বপ্নের মঞ্চ হওয়া প্রয়োজন। সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্লু স্পোর্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ছোট দেশগুলোকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দিলে তাদের ফুটবলের মান উন্নয়নের প্রেরণা অনেক বাড়বে।
ইনফান্তিনো মনে করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত আসরটি সফল হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি আফ্রিকার দেশগুলোর পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করেন। এবারের আসরে আফ্রিকা থেকে ১০টি দলের মধ্যে ৯টি দলই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে, যেখানে আগের আসরে এই মহাদেশ থেকে মাত্র ৫টি দল সুযোগ পেয়েছিল। ২০১৭ সালে ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল ২০৩০ সাল থেকে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব উত্থাপন করে। তবে এই বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি ফিফা কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
২০৩০ সালের বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক হিসেবে থাকছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। এছাড়া বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে উদ্বোধনী ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। উরুগুয়ে ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। তবে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের ধারণা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে বিরোধিতাও রয়েছে। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন এই প্রস্তাবকে ‘খারাপ ধারণা’ বলে অভিহিত করেছেন। এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, দল বাড়ালে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। একইভাবে কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি মনে করেন, এটি ফুটবলের সামগ্রিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনে আগ্রহী হতে পারে এবং ৬৪ দলের আসর হলেও সেটি সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। ফিফার বর্তমান অবস্থান হলো, সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে আসা যেকোনো প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালানো হবে।

















