ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি নিয়ে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে ঢাকা ছাড়ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তার এই সফরে তিনি পর্যায়ক্রমে নিউইয়র্ক, ম্যানিলা ও মালদ্বীপ ভ্রমণ করবেন। সফরের শুরুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাবেন। এরপর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিতব্য আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামে (এআরএফ) যোগ দেবেন। সফরের শেষ গন্তব্য মালদ্বীপ, যেখানে তিনি দেশটির জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, নিউইয়র্কে পৌঁছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি শুরু করবেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশন পরিচালনা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী; এরপর ড. খলিলুর রহমানই হতে যাচ্ছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী দ্বিতীয় বাংলাদেশি।
নিউইয়র্ক সফরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি পদে পরিবর্তন আসছে। বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন আইরিন খান। সরকার তাকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়েছে এবং তিনি আগামী মাস থেকে দায়িত্ব নেবেন।
নিউইয়র্কের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ড. খলিলুর রহমান ম্যানিলায় যাবেন। সেখানে ২৩ জুলাই অনুষ্ঠেয় ৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেবেন। এই সফরে আসিয়ানভুক্ত দেশ ও সংলাপ অংশীদারদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এসব বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, সাইবার নিরাপত্তা এবং কৌশলগত বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরের শেষ পর্যায়ে ম্যানিলা থেকে মালদ্বীপে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে ২৬ জুলাই দেশটির জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এই সফরের ফাঁকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য, পর্যটন এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। সব কর্মসূচি শেষে আগামী ২৭ জুলাই তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

















