কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ৭৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। দেশটির আমিরের দপ্তর বা দিওয়ান থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় রবিবার (১২ জুলাই) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, আল্লাহর ডিক্রি ও ভাগ্যের প্রতি অবিচল বিশ্বাস রেখে আমিরি দিওয়ান জাতির এই মহান ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করছে। সাবেক এই আমিরের মৃত্যুতে কাতারসহ বিশ্ব অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে দোহায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি যুবরাজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর ১৯৯৫ সালের ২৭ জুন কাতারের আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে দেশটি শাসন করেছেন।
তার শাসনকালকে কাতারের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার মূল কারিগর ছিলেন তিনি। প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুদ ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে অভূতপূর্ব সংস্কার সাধন করেন। তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে কাতারের জিডিপি ২৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। ২০১০ সাল নাগাদ কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ক্ষমতা বার্ষিক ৭৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছিল।
শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে তিনি কাতার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৯৬ সালে বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম আল জাজিরা নিউজ চ্যানেল চালু করেন। এছাড়া ২০০৪ সালে কাতারের প্রথম স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন, পৌরসভা নির্বাচন প্রবর্তন এবং নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ তার শাসনামলেই বাস্তবায়িত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার অর্জন এবং ‘কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০’ গ্রহণের পেছনেও তার নেতৃত্ব ছিল অগ্রগণ্য।
ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, ভবিষ্যৎ তোমাদের সামনে, এই মাতৃভূমির সন্তানদের জন্য। তোমরা এমন এক নতুন যুগে পদার্পণ করছ যেখানে তরুণ নেতৃত্ব দেশের পতাকা বহন করবে।
তার বন্ধুত্বপূর্ণ ও ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের আমলে কাতারের জিডিপি ২৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। ২০০৬ সালের মধ্যে কাতারের উত্তর খনি থেকে রেকর্ড পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন করে দেশটিকে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারকে পরিণত করেন তিনি। ২০১০ সাল নাগাদ কাতারের এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা বার্ষিক ৭৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছায়।

















