বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ সারিতে অবস্থান করলেও, এখানকার পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রতিবেশী ও প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। সুইডিশ ফ্যাশন ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএম (H&M) গ্রুপের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডলারের বর্তমান বিনিময় হার বিবেচনায় চীনের পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২৯৪ ডলার। ভিয়েতনামের একজন পোশাকশ্রমিক পান সর্বনিম্ন ১৬৩ ডলার। এমনকি অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানেও এই মজুরি ১৩৫ ডলার এবং ভারতে ১২৪ ডলার। এর বিপরীতে, বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের একজন পোশাকশ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি মাত্র ১০২ ডলার।
পোশাক খাত কেবল আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেই পিছিয়ে নেই, দেশের অভ্যন্তরীণ অন্যান্য শিল্প খাতের তুলনায়ও এই খাতের শ্রমিকদের পারিশ্রমিক কম। চামড়া শিল্প, জাহাজভাঙা শিল্প কিংবা নির্মাণ খাতের শ্রমিকদের আয়ের তুলনায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত পোশাককর্মীরা অনেক কম পারিশ্রমিক পান।
এদিকে গত ৫৬ মাস ধরে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতিকে স্পর্শ করতে না পারায় নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপে শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। জীবনযাত্রার অস্বাভাবিক ব্যয় মেটাতে তারা নতুন মজুরি কাঠামোর দাবিতে রাজপথে নামছেন। প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের কথা থাকলেও, তা গঠনে বিলম্ব হওয়ায় শিল্পাঞ্চলগুলোতে অসন্তোষ তীব্র হচ্ছে।
মালিকপক্ষের মতে, কারখানায় কমদামি পোশাক তৈরি, উৎপাদনশীলতার ঘাটতি এবং হেল্পারদের মতো সহায়ক পদের কারণে গড়ে ন্যূনতম মজুরি কম দেখা যায়। তবে অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে টিকে থাকার নামে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার করছাড় ও নগদ প্রণোদনা সুবিধা পেলেও শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষায় খাতটি পিছিয়ে রয়েছে। শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে সম্মানজনক মজুরি কাঠামো ও ভাতা নিশ্চিত করা জরুরি।

















