মরিয়ম বেগমের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং তা গোপন রাখার উদ্দেশ্যে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের ভাষ্যমতে, এমপি গাজী নজরুল তাঁকে কোটিপতি বানিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। টাকার লোভে মরিয়মের পরিবার এই সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেনি বলে অভিযোগ ওবায়দুরের। ওবায়দুর রহমান সম্পর্কে মরিয়মের মামা এবং মাসুম বিল্লাহর খালু হন। বর্তমানে তিনি গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের (৭৫) ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে থাকা তরুণীকে গাজী নজরুল তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বলে দাবি করেন। অন্যদিকে ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেন, ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় তিনি এমপি নজরুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, ভাগনির সঙ্গে এমপির অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে ১৪ জুলাই তাঁকে হামলার শিকার হতে হয়।
ওবায়দুর জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই গাজী নজরুল পল্লবীতে মরিয়মদের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন। এমনকি এমপি হোস্টেলে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পরও তিনি ঢাকায় আসলে মরিয়মদের বাড়িতেই থাকতেন। ওবায়দুর দাবি করেন, তিনি বিষয়টি জানতে পারলে মাসুম বিল্লাহ বলেছিলেন, এমপিকে হাতে রাখতে হবে এবং পাঁচ বছরে অনেক কিছু করে নিতে হবে। এর অংশ হিসেবেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মাসুম বিল্লাহর নামে ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেন গাজী নজরুল।
ওবায়দুরের ভাষ্য অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র জমার কাজগুলো তিনি নিজেই দেখাশোনা করতেন। সাতক্ষীরার দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঁচটি কাজের দরপ্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি পদে নিজেদের অনুকূল প্রকৌশলী বদলি করে আনার জন্য এমপি নিজেই তদবির করেছিলেন বলে ওবায়দুর দাবি করেন। পাশাপাশি মরিয়মকে সংসদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। ওবায়দুর আরও জানান, ২০ জুন এমপি হোস্টেলে তিনি সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে গাজী নজরুল ‘মুতআ বিয়ে’র ফতোয়া দিয়ে সম্পর্কটি বৈধ করার চেষ্টা করেন। মুখ বন্ধ রাখতে তাঁকে গাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব এবং সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস-২) হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রলোভনও দেখানো হয়েছিল।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। নৈতিক স্খলনের দায়ে জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এদিকে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ভিডিও প্রকাশের পর মরিয়ম এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১৭ জুন উভয় পরিবারের সম্মতিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে তাঁদের বিয়ে হয়েছে। তিনি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন, ১৩ জুলাই তাঁর বাবার অফিসে পরিকল্পিতভাবে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল।

















