ফুটবল মাঠে গোলরক্ষককে সাধারণত দেখা হয় দলের শেষ প্রহরী হিসেবে, যার মূল দায়িত্ব প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো। তবে খেলার ইতিহাসে এমন কিছু গোলরক্ষক ছিলেন, যারা গোল বাঁচানোর পাশাপাশি গোল করার ক্ষেত্রেও অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে তারা দলের প্রয়োজনে গোলদাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সাও পাওলো এফসির কিংবদন্তি গোলরক্ষক রোজেরিও সেনি এই তালিকার শীর্ষে থাকবেন। পেশাদার ক্যারিয়ারে ১৩০টিরও বেশি গোল করে তিনি এমন এক রেকর্ড গড়েছেন, যা আজও অক্ষত। ফ্রি-কিক ও পেনাল্টি থেকে করা তাঁর গোলগুলো ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। মাঠে তাঁর উপস্থিতি প্রতিপক্ষের জন্য শুধু গোল ঠেকানোর আতঙ্ক ছিল না, বরং গোল করার হুমকিও ছিল। তিনি সামনে এগিয়ে এলে দর্শকরা শঙ্কিত হওয়ার বদলে বরং উত্তেজনায় ফেটে পড়তেন। অনেকে তাঁকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক গোলরক্ষক হিসেবে অভিহিত করেন।
তালিকায় রয়েছেন প্যারাগুয়ের হোসে লুইস চিলাভার্ট। আর্জেন্টাইন ঘরোয়া লিগে ভেলেজ সার্সফিল্ডের হয়ে খেলার সময় ফেরো কারিল ওমেস্তের বিপক্ষে তিনি হ্যাটট্রিক করার অবিশ্বাস্য কৃতিত্ব দেখান। গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে ম্যাচ বাঁচানোর পাশাপাশি এভাবে হ্যাটট্রিক করা ফুটবল বিশ্বে প্রায় রূপকথার মতো।
আধুনিক ফুটবলেও গোলরক্ষকদের গোল করার ধারা অব্যাহত রয়েছে। জার্মানির হান্স-ইয়র্গ বুট ছিলেন এমন একজন নির্ভরযোগ্য গোলদাতা, যিনি নিয়মিত পেনাল্টি নিতেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে তিনি হামবুর্গ, লেভারকুসেন এবং বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তিনটি গোল করেছিলেন, যার সবগুলোই ছিল ইতালির ক্লাব জুভেন্টাসের বিপক্ষে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন বেকার লিভারপুলের জার্সি গায়ে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। ২০২১ সালে ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়নের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের কর্নার কিক থেকে চমৎকার হেডে গোল করে তিনি দলকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন। এই গোলটি লিভারপুলের জন্য উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ালিফাই করার পথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

















