ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের ক্রমাগত হামলার মুখে সৌদি আরবের রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। গালফ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক হামলার কারণে গত কয়েক দিনে বিমানবন্দরের কার্যক্রম কয়েক ঘণ্টা করে একাধিকবার বন্ধ রাখতে হয়েছে। হামলার ঝুঁকির মুখে সৌদি আরবে উড়োজাহাজ ওঠানামাও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্যমতে, ৮ অক্টোবর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত রিয়াদ থেকে নির্ধারিত ৩৭৮টি ফ্লাইটের মধ্যে ১৬৯টি বাতিল হয়েছে বা পরিচালিত হয়নি। একই সময়ে রিয়াদে আসা ৩৬৯টি ফ্লাইটের মধ্যে ১২৪টি বাতিল বা বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতির কারণে সিঙ্গাপুর এয়ার তাদের রিয়াদগামী নতুন ফ্লাইট চালুর সময় পিছিয়ে ২৮ মার্চ নির্ধারণ করেছে এবং ফিলিপাইন এয়ারলাইনস অন্তত ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল করেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সৌদির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া। তাদের রিয়াদ থেকে নির্ধারিত ১৪০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৯৭টি এবং রিয়াদগামী ১৩৬টি ফ্লাইটের মধ্যে ৮৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়া ফ্লাইনাসের ৯১টি বহির্গামী ফ্লাইটের মধ্যে ৩০টি, ফ্লাইএডিলের ৫৪টির মধ্যে ২০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১৫টি ফ্লাইটের মধ্যে দুটি ফ্লাইট বাতিল বা বন্ধ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। টার্কিশ এয়ারলাইনসের রিয়াদ থেকে নির্ধারিত চারটি বহির্গামী ও চারটি আগমনী ফ্লাইটই বাতিল হয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজের আটটির মধ্যে তিনটি, ইজিপ্টএয়ারের চারটির মধ্যে দুটি এবং ওমান এয়ারের তিনটির মধ্যে একটি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের দুটি, এয়ার ইন্ডিয়ার দুটি, শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস, ফিলিপাইন এয়ারলাইনস, ইয়েমেনিয়া ও এজেটের একটি করে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
রিয়াদে আসা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। গালফ এয়ারের পাঁচটি আগমনী ফ্লাইটের মধ্যে একটি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের তিনটি ফ্লাইটের মধ্যে একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বেশ কয়েকটি মার্কিন ও ইউরোপীয় এয়ারলাইন এখনো এই অঞ্চলে ফ্লাইট পরিচালনা সীমিত রেখেছে। এছাড়া ক্যাথে প্যাসিফিক দুবাই ও রিয়াদের ফ্লাইট বাতিলের সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত করেছে।

















