ফুটবল ম্যাচে ভাগ্য গড়ে দিতে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানই যথেষ্ট, আর এবারের বিশ্বকাপে তা বারবার প্রমাণ করছেন বদলি খেলোয়াড়রা। স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো এবারের টুর্নামেন্টে বেশিরভাগ সময় ডাগআউটে কাটালেও যখনই মাঠে নেমেছেন, দলের প্রয়োজনে গোল করে ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন। শেষ ষোলোয় পর্তুগালের বিপক্ষে বদলি নেমে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে গোল করে তিনি পর্তুগালের বিদায় নিশ্চিত করেন। একইভাবে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও বদলি নেমে গোল করেন তিনি। দুই ম্যাচ মিলিয়ে মাত্র ৯ মিনিটের কিছু বেশি সময় মাঠে থেকে দুটি নকআউট ম্যাচে জয়সূচক গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন মেরিনো।
মেরিনোর মতোই এই বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নিয়মিত ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন বেলজিয়ামের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। নিউজিল্যান্ড, সেনেগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গোল পাওয়া এই তারকা বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নেমে মোট চারটি গোল করেছেন, যা ক্যামেরুনের রজার মিলার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। তবে বেলজিয়াম স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ায় তার এই সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ আর নেই। এছাড়া জার্মানির দেনিস উনদাভ নিয়মিত একাদশে সুযোগ না পেলেও বদলি হিসেবে নেমে আইভরিকোস্টের বিপক্ষে দুই গোলসহ মোট তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন। ১৯৯০ বিশ্বকাপে রজার মিলার পর এক বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে গোল ও অ্যাসিস্টে এত বড় অবদান আর কারো ছিল না।
পরিসংখ্যান বলছে, কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলা ৯৬টি ম্যাচে মোট ২৬৬টি গোলের মধ্যে ৫০টি এসেছে বদলি খেলোয়াড়দের পা থেকে, যা মোট গোলের ১৮.৬ শতাংশ। এক ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচজন বদলি নামানোর সুযোগ এবং তীব্র গরমে সতেজ খেলোয়াড় ব্যবহারের কৌশল এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। এর ফলে যোগ করা সময়ে গোলের সংখ্যাও বেড়েছে। কেবল গোল নয়, গোল করানোর ক্ষেত্রেও বদলিরা উজ্জ্বল। কঙ্গোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের হয়ে অ্যান্থনি গর্ডনের দুই অ্যাসিস্টে হ্যারি কেইনের জোড়া গোল কিংবা সেনেগালের ইলমান এনদিয়ে-এর ইরাকের বিপক্ষে গোল, অ্যাসিস্ট ও ড্রিবলিংয়ের নৈপুণ্য এর প্রমাণ। তবে সব বদলিই যে সফল হয়েছেন তা নয়; অস্ট্রেলিয়ার কোচ টাইব্রেকারের ঠিক আগে গোলকিপার পরিবর্তন করেও মিসরের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করতে পারেননি।

















