যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। গত রোববার এই হামলার ঘটনা ঘটে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটলেও, রোববারের হামলার পরিধি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল।
এই হামলার আওতা কাতার পর্যন্ত পৌঁছেছে, যারা মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিল। এর আগে গত এপ্রিলের পর কাতারে আর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। মে মাসের শুরুর পর আমিরাতে এটিই ছিল প্রথম বড় ধরনের হামলা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ইরানের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে রোববার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে পাল্টা হামলা শুরু করেছে। এই সপ্তাহের মার্কিন অভিযানের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রয়টার্সকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ফোনালাপে বলেন, আমরা ওদের ওপর তীব্র আঘাত হানছি।
এদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বন্দর আব্বাস ও পার্শ্ববর্তী কেশম দ্বীপের আশেপাশে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই সহিংসতা গত মাসে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ওই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধের অবসান ঘটানো। যদিও গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, তার মতে এই যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে, তবুও আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই সামরিক কার্যক্রম পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে একের পর এক হামলার কারণে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিচ্ছে।

















