হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক একটি সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আইআরজিসির বরাত দিয়ে জানানো হয়, মঙ্গলবার ভোরে হরমুজের প্রবেশমুখে গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষবিহীন এই স্মার্ট সাবমেরিনটি তাদের নৌবাহিনী আটক করেছে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই স্মার্ট সাবমেরিনটি পানির নিচের প্রযুক্তিতে বিশ্বের সর্বাধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত, যা ২০২৫ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছিল। ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ড্রোনটির প্রধান সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে সমুদ্রের তলদেশের ম্যাপিং, মাইন শনাক্তকরণ, পানির নিচে অনুসন্ধান ও নজরদারি এবং সাবমেরিন কেবল ও পাইপলাইন পরিদর্শন।
তবে ইরানের এই দাবির পরপরই আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলেছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা। তার ভাষ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন একদিনেরও বেশি সময় আগে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়েছিল। ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, ড্রোনটি একটি পুরোনো মডেলের ছিল এবং এটি কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল না। এছাড়া এতে কোনো গোপন সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ বজায় রেখেছে তেহরান। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ইরানের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ইরানের বিভিন্ন বন্দরে পাল্টা অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।

















