ইতালির ভেনিসে অবস্থানকালে হামলার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুরের পর ফেসবুক লাইভে এসে তিনি নিজের শারীরিক অবস্থা ও ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। অভিনেত্রী জানান, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং এই ঘটনার আইনি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ভেনিস ছাড়বেন না বলে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাঁধন অভিযোগ করেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সক্রিয় অবস্থানের কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, হামলার সময় হামলাকারীরা তাঁকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে সম্বোধন করে। এছাড়া তাদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বাঁধন বলেন, প্রিমিয়ারের পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বের হলে একদল লোক তাঁর ওপর পানি, কোমলপানীয় ও ডিম ছুড়ে মারে এবং তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তাঁর নিজের চেয়েও বড় কষ্টের জায়গা হলো, এ সময় সঙ্গে থাকা তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানকে হেনস্তা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।
ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ তাঁকে সহযোগিতা করেছে এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে বলে জানান বাঁধন। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত তাঁকে ফোন করেছেন এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন। এরই মধ্যে হামলাকারীদের কয়েকজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং তাদের কাছে ঘটনার প্রমাণও রয়েছে।
বাঁধন বলেন, তাঁকে ভয় দেখানো বা মানসিকভাবে ভেঙে ফেলা সম্ভব নয়। তিনি দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, হামলার পর থেকেই ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে অনেকেই তাঁকে সাহস ও সমর্থন জোগাচ্ছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে, কেস ফাইল না করে তিনি কোনোভাবেই বাংলাদেশে ফিরছেন না। এ ঘটনার বিচার ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা পর্যন্ত তিনি ভেনিসেই অবস্থান করবেন।
বাঁধনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তাঁর সক্রিয় অবস্থানের কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করে ইতালিতে হামলা ও হেনস্তা করা হয়েছে। তিনি নিজেকে ওই আন্দোলনের একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

















