জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনাকে মুছে ফেলার লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু হলে তা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা বিভাগ ‘আইসিএস পাবলিকেশনস’ আয়োজিত জুলাই আন্দোলনভিত্তিক আটটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ‘রক্তে ভেজা সবুজ ডানা’, ‘এক মুঠো রোদ’, ‘আমার জুলাই’, ‘জুলাই বাংলা বর্ণমালা’, ‘জুলাই স্মৃতি (দ্বিতীয় খণ্ড)’, ‘জুলাই রেভল্যুশন ওয়ালস’, ‘Spirit of July ’24 A-Z’ এবং ‘মক্তব’—এই আটটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, জুলাইকে কেন্দ্র করে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চলছে। জুলাইয়ের চেতনাকে দুর্বল করার অন্যতম অপচেষ্টা হলো এই আন্দোলনকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা, যা দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। তিনি আরও বলেন, জুলাই ছিল সাধারণ মানুষের আন্দোলন, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তাই দেশের ভেতরে বা বাইরে থেকে কোনো ষড়যন্ত্র হলে তা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দেওয়া হবে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ জীবন উৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং অতীতের বিভিন্ন ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সঠিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জুলাইয়ের ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। গবেষণা, সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কাছে এই আন্দোলনের স্মৃতি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, জুলাইকে বাদ দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ পথচলা সম্ভব নয়, তাই এই চেতনাকে ধারণ করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু ইতিহাসগ্রন্থে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা উপন্যাস, নাটক ও শিল্প-সাহিত্যেও প্রতিফলিত হয়। জুলাই আন্দোলনের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষাগুলোকেও সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে কবি, কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, অধ্যাপক সাইফুল আরেফিন লেনিন, কবি সোলায়মান আহসান, জুযায়ের হুসাইন এবং জুলাই শহীদ নাসির হাসান রিয়ানের পিতা মো. গোলাম রাজ্জাকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

















