বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল পাটের চলতি মৌসুমে রংপুরের কাউনিয়ায় আশানুরূপ ফলন হয়েছে। তবে মাঠ ভরা সোনালি আঁশ ঘরে তোলার আগেই তীব্র পানির সংকটে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়ার জায়গা না পাওয়ায় বাড়তি শ্রম ও পরিবহন খরচ বহন করতে হচ্ছে তাদের।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে কাউনিয়ায় ৭৪০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৮৬৫ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে ১০ হাজার ১০১ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক কৃষক পাট কেটে জমি বা রাস্তার পাশে স্তূপ করে রেখেছেন। পানির অভাবে অনেকে বাধ্য হয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরের খাল বা নদীতে পাট নিয়ে যাচ্ছেন। গদাই গ্রামের কৃষক আল-আমিন জানান, ফলন ভালো হলেও পাট জাগ দেওয়ার ভোগান্তি এবং পরিবহন খরচ তাদের লাভের গুড় নষ্ট করে দিচ্ছে। রাজিব গ্রামের কৃষক বাবু হাজি অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় আঁশের রং কালচে হয়ে গেছে, যা বাজারে সাদা আঁশের তুলনায় কম দামে বিক্রি করতে হয়।
কৃষকদের এই সংকটের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার বলেন, এবার মৌসুমের শুরুতেই পানি নেমে যাওয়ায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, উপজেলার বিভিন্ন খাল ও ডোবায় এখনো পানি রয়েছে, যেখানে কৃষকরা পাট জাগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। স্থানীয় চাষিরা বলছেন, উৎপাদন খরচ ও জাগ দেওয়ার অতিরিক্ত ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে পাটের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

















