কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে সাগরে গোসল করতে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের হিমছড়ি মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস, লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালালেও নিখোঁজ দুই পর্যটকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও লাইফগার্ড সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আসা ১২ জনের একটি পর্যটক দল হিমছড়ি সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিল। তাদের মধ্য থেকে পাঁচজন সাগরে গোসল করতে নামলে বড় ঢেউয়ের তোড়ে তারা পানিতে তলিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন ও লাইফগার্ডকর্মীরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে তিনজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করলেও পরে তাদের মৃত্যু হয়। নিহত ও নিখোঁজ পর্যটকেরা ঢাকার উত্তরা থেকে এসেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত তাদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং নিখোঁজ দুইজনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে। সি-সেফের আঞ্চলিক পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে মানুষের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় অনেকে দরিয়ানগর ও হিমছড়ি সৈকতের দিকে ঝুঁকছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বর্তমানে পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে তিন লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটেছে এবং এখানকার হোটেল-রিসোর্টগুলো পূর্ণ রয়েছে।
ইমতিয়াজ আহমেদ আরও উল্লেখ করেন, হিমছড়ি ও দরিয়ানগরসহ সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ২০টি গুপ্তখাল তৈরি হয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোসলে নামতে নিষেধ করে লাল নিশানা টাঙানো হলেও অনেক পর্যটক তা উপেক্ষা করছেন। এছাড়া কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ সৈকতে উদ্ধারকর্মী বা লাইফগার্ডের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর লাবণী পয়েন্টে সাগরে ভেসে গিয়ে আরও এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল।

















