বাংলাদেশ

বর্ষার রূপের ডালি সাজিয়ে মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওর

প্রতিবেদক
সব খবর

মৌলভীবাজার শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত কাউয়াদীঘি হাওর এখন বর্ষার জলে টইটুম্বুর। বর্ষায় হাওরের বুকজুড়ে শুধুই জলের বৈভব আর ঢেউয়ের খেলা। কাদিপুর ও অন্তেহরি গ্রামের কাছে পৌঁছালে পুরো হাওরের এই রূপ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। বর্ষার আষাঢ় মাসে মেঘলা বিকেলে হিজল-করচের ঝোপে মেঘের ছায়া জমে থাকে, আর দূরের গ্রামগুলোকে মেঘের নিচে পটে আঁকা কালচে সবুজ রেখার মতো দেখায়।

বর্ষায় হাওরপাড়ের গ্রামগুলো ‘হাওরকন্যা’ হয়ে ওঠে। কাদিপুর অটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকেই নৌকাই হয়ে ওঠে চলাচলের প্রধান ভরসা। স্থানীয়রা জানান, বৈশাখ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত হাওর জলে পূর্ণ থাকে। এ সময় রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় নৌকা ছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার উপায় থাকে না। যাদের নিজস্ব নৌকা নেই, তাদের চলাচলের জন্য বা গবাদিপশুর ঘাস সংগ্রহের জন্য মাসে অন্তত দুই হাজার টাকা ভাড়ায় নৌকা নিতে হয়।

হাওরের বুকে এখন জেলেদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। পুঁটি, মলা, ট্যাংরা ও চিংড়িসহ বিভিন্ন ছোট মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেকে। স্কুলপড়ুয়া কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ—সবাইকে মাছ ধরা বা নৌকা নিয়ে যাতায়াতে ব্যস্ত দেখা যায়। কাদিপুর কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে স্থানীয়রা দিনের কাজ শেষে আড্ডায় বসেন, যেখানে হাওরের মাছ ধরা থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো নানা বিষয় উঠে আসে।

হাওরের এই অনন্য সৌন্দর্যের পাশাপাশি কিছু কষ্টের স্মৃতিও রয়েছে। হঠাৎ আসা ঢলের পানিতে অনেকের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হাহাকার দেখা দেয়। তবে সেই হারানোর বেদনা ছাপিয়েও হাওর, চেনা মাঠ ও ঘাট নিয়েই তাদের জীবন আবর্তিত হয়।

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে হাওরের রূপ আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। পশ্চিম আকাশে সূর্যের রঙ মেঘের গায়ে মিশে যায়, আর গরু নিয়ে কৃষকরা বাড়ি ফেরেন। আকাশ দিয়ে কাকের ঝাঁক ও সাদা বক উড়ে যায়। কচুরিপানা ঠেলে নৌকাগুলো পাড়ে ভিড়তে থাকে, আর হাওরের রূপের সাক্ষী হয়ে দিনের শেষ মুহূর্তটি মন্থরগতিতে পার হয়।

সব খবর