নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ জয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যখন স্পেনের খেলোয়াড়েরা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন, তখন মাঠের এক কোণে আলোকচিত্রীদের ভিড় জমেছিল। সেখানে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ঘিরে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। সে আর কেউ নয়, স্পেনের ১৯ বছর বয়সী বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন। পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই নিজের দুষ্টুমি আর সাবলীল কর্মকাণ্ডে সে ইন্টারনেট সেনসেশনে পরিণত হয়েছে।
ম্যাচ শেষে মাঠে ঢুকে কেইন সরাসরি ছুটে গিয়ে বড় ভাই ইয়ামালের কোলে চড়ে বসে। এরপর শুরু হয় তার দুষ্টুমি। কখনো নিরাপত্তারক্ষীদের হ্যাট নিজের মাথায় পরা, কখনো আলোকচিত্রীর ক্যামেরার সামনে ডিগবাজি খেয়ে পোজ দেওয়া, আবার কখনো সমবয়সী কাউকে পেয়ে বল নিয়ে ‘নাটমেগ’ করার চেষ্টা—সব মিলিয়ে সে ছিল দারুণ প্রাণবন্ত। এমনকি নিজের মাথার চেয়ে তিন গুণ বড় বেসবল ক্যাপ পরে এবং গলায় জালের মালা জড়িয়ে তাকে পোজ দিতে দেখা গেছে। ক্যামেরা তার দিকে ঘুরলেই তার আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিমা দেখে বয়স অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই ভাইরাল হওয়ার ঘটনা কেইনের জন্য নতুন নয়। দুই বছর আগে স্পেন যখন ইউরো জিতেছিল, তখন থেকেই সে বড় ভাইয়ের কোলে চড়ে বিভিন্ন মিম উপহার দিয়ে আসছে। এবারের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের সময় জিব বের করে পোজ দেওয়ার ঘটনাটি ছিল বেশ মজার। ইয়ামাল জানান, কেইন আগে থেকেই মায়ের ফোন থেকে কল করে জানিয়েছিল যে সে এমনটা করবে, যা দেখে তিনি মাঠে বেশ হেসেছিলেন।
কেইনের জনপ্রিয়তা এখন যেন শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘বেবিস ডে আউট’ বা ‘হোম অ্যালোন’-এর চরিত্রদের মতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে বলা হচ্ছে, “এই পৃথিবীটা কেইনের, আমরা শুধু সেখানে বাস করছি।” ইয়ামালের পরিবার জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই তার কাছে বাণিজ্যিক পণ্যের দূত হওয়ার প্রস্তাব এসেছে। ২০২২ সালে জন্ম নেওয়া কেইন বড় ভাই ইয়ামালের ভীষণ প্রিয়। ইয়ামাল নিয়মিতই ছোট ভাইয়ের সঙ্গে নাচের ভিডিও কিংবা বাগানে ফুটবল খেলার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন।
যামাল কেবল মাঠে নয়, পরিবারের সবার স্বপ্ন পূরণেও ভূমিকা রাখছেন। নিজের সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি জানান, মা মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাকে জন্ম দিয়েছিলেন এবং বাবাকে জীবিকার জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ইয়ামাল তার ছোট ভাইকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসেন। তিন বছর বয়সেই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া কেইনকে নিয়ে ভবিষ্যতে আরও অনেক গল্প তৈরি হবে, এমনটাই প্রত্যাশা ফুটবল ভক্তদের।

















