আদালতের নির্দেশে রাজধানীর গুলশানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় দিনের মতো ক্রোক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি বিশেষ টিম। অভিযানে ফ্ল্যাট দুটি থেকে ২৬৯ ধরনের মোট দেড় হাজারের বেশি বিলাসবহুল পণ্যসামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ১ হাজার ১৩৫টি এবং বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৪০০টি পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে এই ইনভেন্টরি বা সম্পদের তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ জানান, গুলশানের ৬৬ নম্বর রোডের নর্থওয়েস্ট বি ব্লকের ১১ নম্বর প্লটের ওই ভবন থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে তিন শতাধিক কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, আটটি ঘড়ির বক্স—যার মধ্যে চারটি রোলেক্স ব্র্যান্ডের ঘড়ি রয়েছে। এছাড়াও প্রায় ১০০টি কামিজ, মুক্তার গয়না, ঝাড়বাতি, বেড, সোফা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি), সিলিং ফ্যান, ট্রেডমিল, ফ্রিজ, স্যুটকেস এবং বিভিন্ন চেয়ার-টেবিলসহ বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত রোলেক্স ঘড়িগুলোর ক্রয় রসিদ অনুযায়ী, প্রতিটির দাম ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার হতে পারে বলে ধারণা করছে দুদক।
উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই আদালতের নির্দেশে গুলশানের এই দুটি ফ্ল্যাটের নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় দুদক। এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত যুক্তরাজ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া ১৩ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি দেশে থাকা তার সম্পদ জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।
২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অনিয়ম ও দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এই তদন্তের জন্য প্রাথমিকভাবে সাত সদস্যের টাস্কফোর্স গঠিত হলেও পরে তা পুনর্গঠন করে নয় সদস্যের একটি দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুদকের দায়ের করা একাধিক মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।
ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। প্রাথমিকভাবে দুদক, সিআইডি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে সাত সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। পরে টিম পুনর্গঠন করে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের দলকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

















