ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস মনে করেন, ক্লাবটি এখনো অতীতের সাফল্য নিয়ে পড়ে আছে, যা বর্তমান দল ও ক্লাবের বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডার মনে করেন, খেলোয়াড় ও কর্তৃপক্ষ উভয়কেই এই পরিবর্তন অনুধাবন করতে হবে। বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোমো-র কাছে ৪-১ গোলে হারের পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বড় ব্যবধানে হারের পর টিএনটি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফার্নান্দেস কোচ মাইকেল ক্যারিকের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। মৌসুমের মাত্র ১১ ম্যাচ পেরোতেই ইউনাইটেডের কোচ এই চাপে পড়েছেন। তবে, ক্লাব কর্তৃপক্ষ এখনই ক্যারিককে বরখাস্ত করার পথে হাঁটছে না, যদিও তার অবস্থান পুরোপুরি নিরাপদ নয়। জানা গেছে, নিয়োগপ্রক্রিয়ার পরিচালক ক্রিস্টোফার ভিভেল, ক্যারিককে সরালে জুলিয়ান নাগলসমানকে দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে। রবিবার বোর্নমাউথের বিপক্ষে ম্যাচটি ক্যারিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
স্কাই স্পোর্টস ইতালিকে ফার্নান্দেস বলেন, “এই ক্লাবে অতীতে কী অর্জন করা হয়েছে, তা নিয়েই আমরা বেশি ব্যস্ত। কিন্তু আমরা এখন আর আগের মতো নেই। ক্লাব ও খেলোয়াড়দের বিষয়টি বুঝতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, খেলোয়াড়েরা শিরোপা জেতা, ম্যাচ জয় এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে ক্লাবে আসেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউনাইটেডের জন্য এসব অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফার্নান্দেসের মতে, দল প্রত্যাশিত পয়েন্ট ও ফল পাচ্ছে না এবং তাদের খেলাও প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি বদলাতে এবং জয়ে ফিরতে হবে। কোমো-র বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে ফার্নান্দেসকে তুলে জশুয়া জির্কজিকে মাঠে নামান ক্যারিক। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অধিনায়ক বলেন, এমন ফলের মধ্যে মাঠ ছাড়তে কারও ভালো লাগে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কোমো একের পর এক খেলোয়াড়কে চেপে ধরে খেলেছে, যার ফলে বলের দখল ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষের অর্ধে খেলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ইউনাইটেডের রক্ষণ ও মাঝমাঠের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে কোমো গোলের সুযোগ তৈরি করেছে।
চলতি মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মাত্র দুটি ম্যাচ জিতেছে। দল দুটি হলো নবাগত ইপসউইচ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দল সাবাহ। রবিবার তারা বোর্নমাউথের মুখোমুখি হবে এবং পরের সপ্তাহে খেলবে চেলসির বিপক্ষে।

















