মিয়ামি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের সাক্ষী হলো দর্শক। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে থমাস টুখেলের শিষ্যরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের দুর্দান্ত সমাপ্তি টেনেছে। বুকায়ো সাকার চোখ ধাঁধানো হ্যাটট্রিকে ভর করে থ্রি লায়ন্সরা ব্রোঞ্জ পদক নিজেদের করে নিয়েছে। তবে ইংল্যান্ডের এই জয়ের রাতে ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাস গড়েছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ম্যাচে জোড়া গোল করার মাধ্যমে লিওনেল মেসিকে টপকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটি এখন এমবাপ্পের দখলে। বিশ্বমঞ্চে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ২২টি। ম্যাচের প্রথমার্ধ শান্ত থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় মূল নাটক। ৪৮ মিনিটে এমবাপ্পে তার প্রথম গোলটি করে ফ্রান্সকে খেলায় ফেরান এবং ৬৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করার মাধ্যমে তিনি মেসিকে ছাড়িয়ে যান, যিনি এতদিন ২১ গোল নিয়ে শীর্ষে ছিলেন।
এই দুই গোল করার পর চলতি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়েও এমবাপ্পে এখন সবার উপরে রয়েছেন। ১০ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি শীর্ষে অবস্থান করছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির সংগ্রহ ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট। চলতি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট তালিকার শীর্ষ অবস্থানগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- ১. কিলিয়ান এমবাপ্পে: ১০ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট
- ২. লিওনেল মেসি: ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট
- ৩. আর্লিং হালান্ড: ৭ গোল, ০ অ্যাসিস্ট
- ৪. জুড বেলিংহাম: ৭ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
- ৫. হ্যারি কেইন: ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
- ৬. উসমান দেম্বেলে: ৬ গোল, ২ অ্যাসিস্ট
এমবাপ্পের এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স রোববারের ফাইনাল ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নিউ জার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ৩৯ বছর বয়সি মেসির সামনে এখন টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে গোল্ডেন বুট ও সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড পুনরুদ্ধারের কঠিন সমীকরণ দাঁড়িয়েছে। গোল্ডেন বুট জিততে হলে মেসিকে ফাইনালে অন্তত ২টি গোল এবং ১টি অ্যাসিস্ট করতে হবে।

















