বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জন শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যাসহ গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা আটশ ছাড়িয়ে গেছে। প্রাণ হারানো এই ব্যক্তিদের সিংহভাগই কোমলমতি শিশু।
বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০৩ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও এক হাজার ৩৭ জন এই রোগে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
গত প্রায় চার মাস ধরে বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম কিংবা এর উপসর্গে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। সংস্থাটির জেনেভাস্থ সদর দপ্তরে জমা হওয়া উপাত্ত অনুযায়ী, এই ছয় মাসে বিশ্বের ১৬৫টি দেশে মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার হামের রোগী পাওয়া গেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ সংক্রমণের দিক থেকে শীর্ষে অবস্থান করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় সংক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত, যেখানে একই সময়ে ২৬ হাজার ৬০৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৫২১ জন। এছাড়া শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে মেক্সিকো, পাকিস্তান, ক্যামেরুন, কাজাখস্তান, গুয়েতেমালা, অ্যাঙ্গোলা ও সুদান।
উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশে শিশুদের মধ্যে হঠাৎ হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং দ্রুত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে দেশব্যাপী হাম সংক্রমণের আনুষ্ঠানিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার শুরু করে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ছয় মাসে হাম সংক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশের নাম শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। এ সময়ে দেশটিতে হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ২৬ হাজার ৬০৭ জন। যুদ্ধপীড়িত ইয়েমেন ১৪ হাজার ৫২১ রোগী নিয়ে রয়েছে তৃতীয় স্থানে। শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে এরপর রয়েছে মেক্সিকো (১২,৪৯৫), পাকিস্তান (১১,০৩৭), ক্যামেরুন (৯,৬৫৩), কাজাখস্তান (৭,৭৩০), গুয়েতেমালা (৬,৮৩২), অ্যাঙ্গোলা (৬,৮১৫) ও সুদান (৫,৭৬৬)।
















